ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক সহিষ্ণু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হোক

আপডেট: 03:00:31 16/12/2017



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : আজ মহান বিজয় দিবস। একাত্তরের এই দিনে দখলদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে নয় মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়েছিল। পৃথিবীর সব স্বাধীন দেশেরই স্বাধীনতা দিবস আছে। কিন্তু বিজয় দিবস নেই। আমরা একই সঙ্গে স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসের উত্তরাধিকারী। যে অগণিত শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে এই বিজয় সম্ভব হয়েছিল, আমরা তাদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। একই সঙ্গে স্মরণ করছি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী নেতাদের।
আলোচনার টেবিলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আসেনি, এসেছে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে। তাই বিজয় দিবস আমাদের জন্য আরো বেশি অর্থবহ। বিজয় দিবস যেমন আমাদের আনন্দের দিন, তেমনি আত্মজিজ্ঞাসারও। স্বাধীনতার যে ঘোষণাপত্রের মধ্য দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছিল কিংবা শহীদদের রক্তের অক্ষরে রচিত সংবিধানে যেসব মূলনীতি ও চেতনার কথা বিবৃত হয়েছিল, সেসব আমরা কতটা ধারণ করছি সেই প্রশ্নও আমাদের করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের মূলকথা ছিল ধর্ম–বর্ণ–জাতি ও নারী–পুরুষনির্বিশেষে সবাই সম–অধিকার ভোগ করবে। কিন্তু সেই প্রত্যয় থেকে অনেক দূরে চলে এসেছি।
তবে এ কথা সত্য যে গেল ৪৬ বছরে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অনেক অর্জন আছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ, শিল্প, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের সাফল্য আছে। মানবসম্পদ উন্নয়ন সূচকেও আমাদের অগ্রগতি অনেক উন্নয়নশীল দেশের চেয়ে বেশি। তা সত্ত্বেও স্বীকার করতে হবে যে প্রতিটি নাগরিকের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। এখনো দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। এখনো বহু মানুষ ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও অপুষ্টির শিকার। এসব ক্ষেত্রে আমাদের আরো অনেক কিছু করণীয় আছে।
সর্বোপরি যে ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক, সহিষ্ণু ও সমতাভিত্তিক সমাজের স্বপ্ন শহীদেরা দেখেছিলেন, সেই লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় নীতি পরিচালিত হবে, এটাই প্রত্যাশিত। রাজনীতিতে পথ ও মতের পার্থক্য থাকবে, কিন্তু সেটি কখনোই সংঘাত সৃষ্টির কারণ হতে পারে না। প্রতিটি মানুষ নির্ভয়ে মতপ্রকাশ করতে পারবে; দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে যার যার অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখবে—এটাই হোক এবারের বিজয় দিবসে আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার।
[প্রথম আলোর সম্পাদকীয়]