ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ৬০ বছরের বিধবার

আপডেট: 01:21:07 18/03/2018



img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : মণিরামপুরের পল্লীতে সম্রাট রায় নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে ৬০ বছর বয়সী এক বিধবাকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ করা হচ্ছে। ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে সম্রাট ওই নারীকে বেধড়ক মারপিটের পর টয়লেটের সেপটি ট্যাঙ্কে ফেলে হত্যার চেষ্টা করে বলেও অভিযোগ।
গত বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার নেহালপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
আক্রান্ত বিধবাকে শনিবার বিকেলে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বিধবার ছেলে জানান, তার মা অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ছিলেন। শুক্রবার সেখান থেকে তাকে বাড়ি আনা হয়। আবার অবস্থার অবনতি হওয়ায় শনিবার বিকেলে তাকে মণিরামপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহত বিধবা অভিযোগ করেন, গত বৃহস্পতিবার ভোরে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের পেছনে টয়লেটে যান তিনি। তখনও অন্ধকার ছিল। টয়লেটে ঢোকামাত্র প্রতিবেশী সুশান্ত রায়ের বখাটে ছেলে মাদকসেবী সম্রাট তাকে জাপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এসময় তিনি সম্রাটের পা চেপে ধরেন। তবুও সম্রাট তাকে না ছাড়ায় তিনি ধস্তাধস্তি করেন। এসময় সম্রাট তাকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে টয়লেটের সেপটি ট্যাঙ্কে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। সম্রাটের হাতে মার খেয়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
বিধবার ছেলে বলেন, ‘জ্ঞান ফেরার পর মার চিৎকার শুনে আমার স্ত্রী এগিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।’
তিনি বলেন, ‘আমি বাড়ি থাকি না। এই সুযোগে সম্রাট বহুবার আমার স্ত্রীর দিকে হাত বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। ওই দিন ভোরে মা লাইট নিয়ে টয়লেটে ঢোকে। আলো দেখে সম্রাট মনে করে, আমার স্ত্রী টয়লেটে গেছে। সম্রাট গাঁজাখোর। নেশার ঘোরে সে চিনতে পারেনি কে আমার মা, কে আমার বউ।’
মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের ওয়ার্ডবয় আক্তার হোসেন দায়িত্বরত চিকিৎসকের বরাত দিয়ে বলেন, ‘ওই নারীর অবস্থা এখন ভালো।’
এদিকে, এই ঘটনায় ওই গৃহবধূর ছেলে বাদী হয়ে সম্রাটের বিরুদ্ধে মণিরামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ পেয়ে থানার এএসআই রাসেল হোসেন শনিবার ঘটনাস্থলে যান।
তিনি বলেন, ‘আমি ঘটনাটি ওসি স্যারকে জানিয়েছি। স্যারের সাথে কথা বলেন।’
মণিরামপুর থানার ওসি মোকাররম হোসেন বলেন, ‘অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন