দুর্গোৎসবে কালীগঞ্জে মদপানে আরো দুইজনের মৃত্যু

আপডেট: 02:19:10 22/10/2018



img

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : দুর্গোৎসবে কালীগঞ্জে অতিরিক্ত মদপানে আরো দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আরো দুইজন অসুস্থ হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।  এর আগের দিন যশোর জেনারেল হাসপাতালে মারা যান মুন্না দাস নামে কালীগঞ্জের এক ব্যক্তি
পরে মৃত দুইজন হলেন, কালীগঞ্জ শহরের বলিদাপাড়ার নির্মল কুমারের ছেলে বিকাশকুমার ওরফে বাপ্পি (৩৫) এবং শহরের কালীবাড়ি এলাকার বিমল মিত্রের ছেলে শুভঙ্কর মিত্র ওরফে টিটো কর্মকার (৪৫)।
পুলিশ বলছে, তারা এখনো বিষয়টি জানে না। তবে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের পক্ষ থেকে মদপানের বিষয়টি স্বীকার করা হলেও তারা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। এই ঘটনা নিয়ে যাতে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত না হয়, সে চেষ্টাও তারা করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকে মদ পান করেন। অতিরিক্ত মদপানে অসুস্থ হয়ে পড়ায় বৃহস্পতিবার রাতে বিকাশ দাস নামে একজনকে কালীগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই মারা যান তিনি। এছাড়া শুক্রবার রাতে মদপানে অসুস্থ হয়ে পড়েন বিকাশকুমার ও শুভঙ্কর মিত্রসহ আরো কয়েকজন। তাদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করার পর শুভঙ্কর মিত্র ও বিকাশকুমার মারা যান। এছাড়া একই কারণে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন শহরের নিমাই দাসের ছেলে তপন দাস (৩৮), কলেজপাড়ার বাঞ্ছারামের ছেলে পিন্টু (৩০) ও নির্মল দাস (৫৫)। এরমধ্যে শনিবার সকালে নির্মল দাস হাতপাতাল থেকে পালিয়ে গেছেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
মারা যাওয়া মুন্না দাসের ভাই অন্তর দাস জানান, দুর্গোৎসবে অতিরিক্ত মদ পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন মুন্না। তাকে প্রথমে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মুন্না।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা সাফায়াতে হুসাইন জানান, এরা সবাই হাসপাতালে এসেছিলেন মদপানে অসুস্থ হয়ে। এদের মধ্যে গত দুইদিনে তিনজন মারা গেছেন।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইউনুস আলী জানান, ‘আমি বিষয়টি জানি না। মদ খেয়ে মারা গেছে এমন- কোনো সংবাদও আমাদের কেউ দেয়নি। তবে প্রত্যেক পূজামণ্ডপ কমিটির সাথে মিটিং করে মদ সেবন না করার জন্য বলা হয়েছিল।’