কর্মসংস্থান প্রকল্পের শ্রমিক কাজ করছেন অন্যখানে

আপডেট: 06:56:59 19/11/2018



img
img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : এবারো মণিরামপুরের রোহিতা ইউনিয়নে অতিদরিদ্রদের জন্য ৪০ দিনের কর্মসংস্থান কর্মসূচি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের জন্য নিযুক্ত শ্রমিকদের দিয়ে অন্য কাজ করানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে এমন অনিয়ম চললেও  ‘খোঁজ রাখে না’ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস।
সোমবার সরেজমিন ইউনিয়নের প্রকল্পগুলো ঘুরে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, রোহিতা ইউনিয়নের ছয় নম্বর (কোদলাপাড়া) ওয়ার্ডের ২৮ জন শ্রমিক ইউনিয়ন পরিষদের মাঠে নতুন তৈরি ইটের সলিং রাস্তার দুই পাশে মাটি ফেলছেন। যেই রাস্তায় শ্রমিকরা কাজ করছেন সেটি এলজিএসপি প্রকল্পের। সাড়ে সাত লাখ টাকা বরাদ্দে রাস্তাটির কাজ চলমান। যদিও কর্মসূচির এসব শ্রমিক ওয়ার্ডের ‘কোদলাপাড়া জামতলা মোড় থেকে নোয়াপাড়া ঝাউতলা হয়ে ইউনিয়ন পরিষদ অভিমুখি রাস্তা সংস্কার’ প্রকল্পে নিযুক্ত।
এদিকে ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর (নোয়াপাড়া) ওয়ার্ডে গিয়েও প্রকল্পে অনিয়ম দেখা গেছে। ওয়ার্ডের ‘নোয়াপাড়া চার রাস্তার মোড় থেকে সালামতপুর জামতলা হয়ে বাগডোব পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার’ প্রকল্পের কাজ করার কথা রয়েছে। কিন্তু প্রকল্পের ৩৬ জন শ্রমিকের কেউ সেই কাজ করছেন না। প্রকল্প বাদ দিয়ে তারা স্থানীয় মাঠপাড়ায় ধানের ক্ষেতের পাশে কাজ করছেন। জানা গেল, শ্রমিকরা যেখানে কাজ করছেন, সেটি ওয়ার্ডের মাঠপাড়ার প্রস্তাবিত ঈদগাহ।
জানতে চাইলে শ্রমিক সর্দার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘গত তিন দিন ধরে আমরা নওয়াপাড়া মাঠপাড়ার ঈদগাহ ভরাটের কাজ করছি। এই মাঠ ভরাটের কাজ প্রকল্পে আছে কিনা তা বলতে পারব না।’
অন্য শ্রমিকরা জানান, প্রকল্পের প্রথম দিন থেকে তারা সেখানে কাজ করছেন। গত সপ্তাহের শনিবার থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান শ্রমিকরা।
জানতে চাইলে প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘ঈদগাহ ভরাটের কাজ প্রকল্পে নেই। এলাকার জনগণের স্বার্থে এখানে কাজ করাচ্ছি।’
আর ইউনিয়নের ছয় নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মনিরুজ্জামান বলেন, ‘প্রকল্পে নেই। চেয়ারম্যান আবু আনছার সরদারের অনুরোধে ইউনিয়ন পরিষদের মাঠের সলিং রাস্তার দুই পাশে কাজ করানো হচ্ছে। আর এমন ভুল হবে না।’
এছাড়া ইউনিয়নের সরসকাঠি, পট্টি, গাঙ্গুলিয়া ওয়ার্ডে চারজন করে এবং এড়েন্দা ওয়ার্ডে দুই জন করে শ্রমিক অনুপস্থিত থাকছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. বায়েজিদ বলেন, ‘রোহিতা ইউনিয়নের যে দুটি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, সেব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু আনছার সরদারকে অফিসে ডেকেছি। তাকে শোকজ করা হয়েছে। প্রকল্প দুটির শ্রমিকদের বিল কর্তন করা হবে।’

আরও পড়ুন