কোটচাঁদপুরে টুলু হত্যার চার আসামি গ্রেফতার

আপডেট: 06:05:59 17/02/2018



img
img

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার তালসার গ্রামের মেধাবী ছাত্র হাবিবুর রহমান টুলু হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত চার আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।
গ্রেফতার আসামিরা হলেন, তালসার গ্রামের মুল্লুক চাঁদ মণ্ডলের ছেলে জাকির মণ্ডল, একই গ্রামের জহির মণ্ডলের ছেলে মিল্টন মণ্ডল, নজরুল মণ্ডলের ছেলে আসাদুল ও ইসমাইল মণ্ডলের ছেলে জাকির। শনিবার বিকেলে ঘাগা তালসার বাজারে অভিযান চালিয়ে এদের গ্রেফতার করে র‌্যাব।
এর আগে আদালতে হত্যা মামলা ও ওয়ারেন্ট থাকার পরও আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতো বলে অভিযোগ ছিল।
ঝিনাইদহ র‌্যাব-৬ এর এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, র‌্যাবের স্কোয়াড কমান্ডার এএসপি গোলাম মোর্শেদের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে উল্লিখিত চার আসামিকে ঘাগা বাজার থেকে গ্রেফতার করা হয়।
তালসার গ্রামের মেধাবী ছাত্র হাবিবুর রহমান টুলুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে ‘সে আত্মহত্যা করেছে’ বলে প্রচার করা হয়। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আদালতের নির্দেশে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করে। পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে হত্যার বিষয়টি উঠে আসায় প্রমাণিত হয় ডাক্তারের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ও থানায় রুজু করা আত্মহত্যার মামলাটি সঠিক ছিল না।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১০ জুন তালসার গ্রামের সাব্দার আলীর স্কুলপড়ুয়া ছেলে হাবিবুর রহমান টুলুকে একই গ্রামের জাকির হোসেন, আসাদুল, নজরুল ইসলাম, আলামিন, মিল্টন, জমির, আমিরুদ্দীন ও জমির পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে।
হাবিবুর রহমান টুলু হত্যা মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী গৌতমকুমার অভিযোগ করেন, আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় ঘটনার পর থেকে নানাভাবে বাদীকে হয়রানি করে আসছেন। মোটা টাকার প্রস্তাব দিয়ে মামলাটি মীমাংসা করতে না পেরে প্রধান আসামি জাকির হোসেন বাদী সাব্দার আলীর নামে ৫-৬টি মিথ্যা মামলা করেন। ফলে আসামিদের অত্যাচারে উল্টো বাদীই পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন।
হাবিবুর রহমান টুলু (১৬) কোটচাঁদপুরের তালসার কাজী লুৎফর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল। মামলায় উঠে আসে, একই স্কুলের ছাত্রী ও নজরুল মণ্ডলের মেয়ে শাহানাজ ঘটনার তিন দিন আগে একটি ছেলের সঙ্গে পালিয়ে যায়। এ নিয়ে তারা টুলুকে সন্দেহ করতে থাকে। গত ১০ জুন রাতে প্রধান আসামি জাকির মণ্ডল ফোন করে টুলুকে তার সঙ্গে দেখা করতে বলেন। টুলু সরল মনে তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরদিন গ্রামের একটি বাগানে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়। মৃতদেহ খুঁজে পাওয়ার আগেই আসামিরা বাড়ির মালামাল নিয়ে গা-ঢাকা দেন।
‘নিহতের’ বাবা ও মামলার বাদী সাবদার মণ্ডল জানান, টুলু বাইরে যাওয়ার সময় তার কাছে নিজের শিক্ষা বৃত্তির এক হাজার ৩০০ ও জমি বিক্রির এক লাখের বেশি টাকা ছিল। সে টাকাও খুনিরা নিয়ে যায়।

আরও পড়ুন