মণিরামপুরে ভুয়া সনদে চাকরি পাওয়ার চেষ্টা

আপডেট: 06:37:35 10/12/2017



img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : মণিরামপুরে শিক্ষাগত যোগ্যতার ভুয়া সনদ জমা দিয়ে গ্রামপুলিশ (মহল্লাদার) পদে নিয়োগ পাওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের তবিবুর রহমান (২৯) নামে এক যুবক টাকা দিয়ে ভুয়া সনদ জোগাড় করে নিয়োগ নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া সনদ জমা দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত তবিবুর রহমান। এর প্রতিকার চেয়ে ওয়ার্ডের নওয়াপাড়া গ্রামের মৃত আমির আলীর ছেলে আব্দুর রাজ্জাক নামে এক ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
তবিবুর পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের নওয়াপাড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসের সহকারী আবু হেনা মোস্তফা কামাল অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রোহিতা ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ ইদ্রিস আলী দফাদার পদে পদোন্নতি পাওয়ায় চলতি বছরের প্রথম দিকে ওই ওয়ার্ডের মহল্লাদারের পদটি শূন্য হয়। গত ৫ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান সেই পদে লোক চেয়ে একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। তবিবুর রহমানসহ তিনজন ওই পদে আবেদন করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তবিবুর রহমান লেখাপড়া জানেন না। তিনি কোনো মতে নিজের নাম স্বাক্ষর করতে পারেন। অথচ গ্রামপুলিশ পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য তিনি উপজেলার কাশিমনগর ইউনিয়নের ইত্যা হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণি পাশের একটি সনদ জমা দিয়ে চাকরির জন্য আবেদন করেছেন। টাকার বিনিময়ে তিনি সনদটি যোগাড় করেছেন বলে অভিযোগ।
স্থানীয়রা বলছেন, তবিবুরের বাড়ি থেকে ওই স্কুলের অবস্থান প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে। তিনি কখনো ওই প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করেননি।
সনদ প্রদানের ব্যাপারে জানতে চাইলে ইত্যা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সুকুমার বিশ্বাস বলেন, ‘ওই নামের কাউকে আমি অষ্টম শ্রেণি পাশের সনদ দিইনি। আর তবিবুর নামের নওয়াপাড়া গ্রামের কেউ কখনো আমার প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করেনি।’
তার স্বাক্ষর জাল করে সনদটি তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি করেন প্রধান শিক্ষক সুকুমার বিশ্বাস।
জানতে চাইলে অভিযুক্ত তবিবুর রহমান ইত্যা স্কুল থেকে নেওয়া অষ্টম শ্রেণি পাশের সনদ জমা দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি ইত্যা হাইস্কুলে লেখাপড়া করিনি। মাদরাসায় লেখাপড়া করেছি।’
তাহলে ইত্যা স্কুলের সনদ কোথায় পেলেন?- এমন প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তিনি পরে ফোন করার কথা বলে লাইন কেটে দেন।
মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘মহল্লাদার পদে নিয়োগের জন্য বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আবেদন চাওয়া হয়। নির্ধারিত তারিখের মধ্যে কিছু আবেদন জমা পড়েছে। প্রাপ্ত আবেদনগুলো ১৬ ডিসেম্বরের পর যাচাই-বাছাই করা হবে।’
এই বিষয়ে কারো অভিযোগ থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ইউএনও।

আরও পড়ুন