বারোবাজারের সেই চেয়ারম্যান আজাদ বরখাস্ত

আপডেট: 08:17:58 19/01/2018



img
img

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব মো. মাহাবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গত ১০ জানুয়ারি প্রজ্ঞাপনটি জারি হলেও বৃহস্পতিবার তা কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) হাতে এসে পৌঁছে।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে আবুল কালাম আজাদ বারোবাজার থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি বারোবাজার ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক।
২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজারে নিজ কার্যালয় থেকে দুটি তাজা বোমা, ১২০ বোতল ফেনসিডিল ও ২৫০ পিস ইয়াবাসহ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, তার বড় ভাই আব্দুস সালাম, তাদের সহযোগী উজ্জ্বল হোসেন, সুমন হোসেন ও ফরহাদ হোসেনকে আটক করে র‌্যাব-৬। পরের দিন র‌্যাব-৬ এর ডিএডি জহুরুল ইসলাম বাদী হয়ে বারোবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মাদক ও বিস্ফোরক আইনে মামলা করেন।
এ ঘটনার চার দিন পর ২ নভেম্বর কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজারে চেয়ারম্যানের বাড়িতে আবারো অভিযান চালায় র‌্যাব। সেখান থেকে একটি দেশি রিভলবার, চারটি শুটারগান, তিন হাজার বোতল ফেনসিডিল ও ৫০০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয় বলে জানায় র‌্যাব। সেদিন ইউপি চেয়ারম্যানের ভাই সোহেল রানা, সোহান ও জামাল নামের অপর এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক হন।
এরপর ২০১৭ সালের ৩০ জানুয়ারি আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় করা মাদক ও বিস্ফোরক মামলাটি আদালতে গৃহিত হয়। এই প্রেক্ষিতে ইউনিয়ন পরিষদসহ জনস্বার্থের পরিপন্থী হওয়ায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩৪ উপধারা (১) অনুযায়ী তাকে চেয়ারম্যান পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উত্তমকুমার রায় জানান, বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞাপনের কপি হাতে পাওয়ার পরই ইউনিয়নের সচিবকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ওই ইউনিয়নে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন প্যানেল চেয়ারম্যান।

আরও পড়ুন