মণিরামপুরে পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসি টিভি, অনেকে বিপাকে

আপডেট: 02:31:38 16/10/2018



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : মণিরামপুরের ১৩টি জেএসসি, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার কেন্দ্র ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে। সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এমন সিদ্ধান্ত নেন।
সোমবার বিকেলে ইউএনওর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় কেন্দ্র পরিচালনা কমিটিকে পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে কেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার কেন্দ্রকে নকলমুক্ত এবং স্বচ্ছ রাখতে ইউএনও আহসান উল্লাহ শরিফী এমন উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে ইউএনওর এমন নির্দেশনা মানতে চাচ্ছেন না কোনো কোনো শিক্ষক।
আগামী পহেলা নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে জেএসসি, জেডিসিসহ সমমানের পরীক্ষা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলার মণিরামপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, মণিরামপুর সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, রাজগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রাজগঞ্জ শহীদ স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, খেদাপাড়া পল্লীমঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পলাশী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নেহালপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মণিরামপুর ফাজিল মাদরাসা, রাজগঞ্জ সিদ্দিকিয়া মডেল ফাজিল মাদরাসা, নেংগুড়াহাট ফাজিল মাদরাসা, খেদাপাড়া ফাজিল মাদরাসা, রাজগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় (কারিগরি) ও মশিয়াহাটী অক্ষয় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ (কারিগরি) কেন্দ্রে ২০১১ সাল থেকে জেএসসি, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
এরআগে মণিরামপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, মণিরামপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রাজগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মণিরামপুর ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে এসব পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতো।
২০১১ সালে কেন্দ্র সংখ্যা বেড়ে গ্রাম এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, তখন থেকে এসব কেন্দ্রে কমবেশি অনিয়ম হচ্ছে। এই কারণে অনেক শিক্ষার্থী পাঠ্যপুস্তকবিমুখ হয়ে পড়ে।
এসব অভিযোগ দূর করে স্বচ্ছ পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার সুষ্ঠু ধারা ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইউএনও। মণিরামপুরে যোগদানের আগে মাগুরার শ্রীপুরে ইউএনও থাকাকালীন তিনি একই পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণ করিয়ে বেশ প্রশংসিত হয়েছিলেন।
এদিকে ইউএনওর এই উদ্যোগকে ভালোভাবে নিচ্ছেন না শিক্ষকদের একাংশ। সোমবার বিকেলে আলোচনা চলাকালে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রের সচিব ও কমিটিপ্রধান সরাসরি এর বিরোধিতা করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সূত্রটি জানিয়েছে, যেহেতু পরীক্ষার ফলাফলের সঙ্গে শিক্ষকদের বেতনের সম্পর্ক রয়েছে, সেই কারণে কোনো কোনো শিক্ষক যেকোনো প্রকারে তাদের শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল দেখাতে চান। তাছাড়া ননএমপিও প্রতিষ্ঠানগুলো অনুমোদন পাওয়ার স্বার্থে পাশের হার বাড়াতে উদগ্রীব থাকে।
শিক্ষকদের যুক্তি, ক্যামেরা বসানোর মতো পর্যাপ্ত টাকা না থাকার বিষয়টি তারা ইউএনওকে জানিয়েছেন। কিন্তু ইউএনও তাদের কোনো কথা শুনতে চাননি। তিনি দ্রুত কেন্দ্রের কক্ষগুলোতে ক্যামেরা বসানোর নির্দেশ দিয়েছেন। শুধু পরীক্ষার হলে নয় সচিবের কক্ষেও ক্যামেরা লাগানোর ব্যাপারে তিনি তাগিদ দিয়েছেন।
এই ব্যাপারে খেদাপাড়া ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রের সচিব মুহাম্মদ নাজমুচ সাহাদাত বলেন, ‘বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় আমাদের ক্যামেরা স্থাপনের মতো টাকা নেই। তাছাড়া এই পরিবেশে পরীক্ষা নিলে বাইরের উপজেলাগুলো থেকে ফলাফলে আমরা পিছিয়ে পড়ব- এমনটি আলোচনায় উপস্থাপন করা হলেও ইউএনও শোনেননি। তিনি যেকোনো প্রকারে আমাদের ক্যামেরা বসাতে নির্দেশনা দিয়েছেন।’
এদিকে কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কথা শুনে কক্ষ পরিদর্শকদের কেউ কেউ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। তাদের অভিমত, এমনটি হলে তারা চাকরি হারানোর আশঙ্কায় পড়বেন।
জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ শরিফী বলেন, দেশ যেহেতু ডিজিটাল হয়েছে, তাই দেশের সাথে তাল মেলাতে, পরীক্ষা পদ্ধতি স্বচ্ছ করতে এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ক্লাসমুখি করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইউএনও বলেন, ‘প্রত্যেক কেন্দ্রের সচিবের কক্ষে আমার মোবাইলে এবং ডিসি স্যারের মোবাইলে অ্যাপ থাকবে। পরীক্ষা চলাকালে কোনো অনিয়ম হলে ভিডিওগুলো দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাছাড়া, পরেও ভিডিও দেখে অনৈতিক কাজে জড়িত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এখন থেকে কেন্দ্র সচিব, হল সুপার এবং ইউএনও’র প্রতিনিধি ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বা পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির কোনো সদস্য কেন্দ্রে প্রবেশ বা অবস্থান করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন