শ্যামনগরের প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট: 10:49:18 09/10/2017



img

আব্দুস সামাদ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা প্রকৌশলী চৌধুরী মো. আসিফের বিরুদ্ধে কয়েক লাখ টাকার পুরনো মালামাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদারকে সুবিধা দিয়ে প্রাক্কলিত মূল্য কম দেখিয়ে তিনি এ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ।
অভিযোগ তদন্তে ইতিমধ্যে প্রকল্প পরিচালকের নির্দেশে একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে বদলি করা হয়েছে। তবে অজ্ঞাত কারণে উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
কার্যাদেশ থেকে জানা যায়, ‘খুলনা বিভাগ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সাতক্ষীরা শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে হরিনগর হাট ভায়া ধুমখালি রোড প্রায় চার কিলোমিটার রাস্তার হেরিং বন্ড তুলে নতুন করে পিচ রাস্তা করার টেন্ডার আহ্বান করা হয়। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে রাজধানীর মিরপুরের মেসার্স রাবেয়া ট্রেডার্স কার্যাদেশ পায়। কাজের চুক্তিমূল্য নির্ধারণ হয় প্রায় দুই কোটি ৭৩ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। চলতি বছরের ২১ জুন শুরু করে আগামী বছরের ২০ জুন এর মধ্যে শেষ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই রাস্তায় পুরনো ইটের হেরিং বন্ড স্যলভেজের (ওয়েস্টেজ) দাম নির্ধারণ করা হয় ৩৮ লাখ ৬০ হাজার ৮৫৮ টাকা; যা প্রকৃত মূল্য থেকে ২০-২৫ লাখ টাকা কম বলে অভিযোগ ওঠে।
বহিরাগত ঠিকাদার নিযুক্ত করে কম টাকার মালামাল দেখিয়ে বাকি টাকা উপজেলা প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টরা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ এনে প্রকল্প পরিচালক বরাবর একটি অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে একটি তদন্ত দল রাস্তাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে। তদন্ত দল রাস্তায় কম পরিমাণ স্যলভেজ ধরা হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়।
তদন্ত দলের রিপোর্টের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কাজের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল ওহাবকে বদলি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনার ‘মূল হোতা’ বলে কথিত উপজেলা প্রকৌশলী চৌধুরী মো. আসিফের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। 
এছাড়া আরো কয়েকটি রাস্তায় কম স্যলভেজ দেখিয়ে ঠিকাদারের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে শ্যামনগরের উপজেলা প্রকৌশলী চৌধুরী মো. আসিফের বিরেুদ্ধে। তিনি অনেক রাস্তায় মাটির কাজ থাকলেও তা টিআর, কাবিখাসহ বিভিন্ন প্রকল্পের মহিলা কর্মীদের দিয়ে মাটি ভরাট করিয়েও টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
এবিষয়ে কয়েকজন ঠিকাদার বলেন, উপজেলা প্রকৌশলী বাইরে থেকে ঠিকাদার এনে তাদের কাছ থেকে সুবিধা নিচ্ছেন। রাস্তায় যে পরিমাণ মাটি দেওয়ার কথা তাতে বাজেট থাকলেও তিনি অন্য প্রকল্পের লোক দিয়ে কাজ করিয়ে ঠিকাদারের কাছ থেকে টাকা আদায় করেন। সাতক্ষীরার ঠিকাদার হলে তিনি এভাবে টাকা আদায় করতে পারবেন না বিধায় বাইরের ঠিকাদারদের কাজ পেতে সহযোগিতা করছেন।
এ বিষয়ে ঈশ্বরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শোকর আলী বলেন, ‘এ রাস্তায় যে এতো টাকার স্যলভেজ থাকতে পারে সেটি আমাদের ধারণায় ছিল না। তদন্তের সময় বিষয়টি জানতে পারি।’
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী চৌধুরী মো. আসিফ বলেন, ‘এটি তেমন কোনো বড় বিষয় না। কিন্তু একটি মহল বিষয়টিকে বড় করে দেখানোর চেষ্টা করছে।’
তবে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত হওয়ার কথা স্বীকার করেন প্রকৌশলী আসিফ।
এ বিষয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামছুজ্জামান বলেন, ‘অভিযোগের সত্যতা নির্ণয়ে সরেজমিনে তদন্ত করা হয়েছে। যেটুকু সমস্যা আছে তা বিচার-বিশ্লেষণ করে বাড়তি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন