মণিরামপুরে দিনমজুরকে গলা কেটে হত্যা

আপডেট: 02:53:23 19/11/2017



img
img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের মণিরামপুরে আকবার আলী (৫৫) নামে এক দিনমজুর খুন হয়েছেন।
শুক্রবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা উপজেলার কৃষ্ণবাটি গ্রামের নিজঘরের বারান্দায় তাকে গলা কেটে হত্যা করে। তার দু’হাতে আঘাতের চিহ্ন এবং পাশে একটি ওড়না ছিল।
নিহত আকবার যশোর সদরের ডহরসিঙ্গা গ্রামের আবু তালেবের ছেলে। তিনি হেলাঞ্চি কৃষ্ণবাটি গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। তাদের সংসারে এক ছেলে ও দু’মেয়ে রয়েছে।
খবর পেয়ে শনিবার সকালে ঘটনাস্থলে যান মণিরামপুর থানার ওসি মোকাররম হোসেন। তার মরদেহ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ নিহতের স্ত্রী হালিমা, ছেলে মিন্টু ও মেয়ে সোনিয়াকে হেফাজতে নিয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, আকবার আলী খুবই পরিশ্রমী ও সৎ ব্যক্তি ছিলেন। তবে, তার স্ত্রীর স্বভাবচরিত্র বেশি একটা ভাল না। রাতে তার ঘরে কেউ ঢুকে পড়ে যা আকবার দেখে ফেলেন। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে তাদের ধারণা।
হালিমা স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেছেন,‘রাতে স্বামীর সাথে ঘুমিয়ে ছিলাম। গভীররাতে চার-পাঁচজন ঘরে ঢুকে আমাদের দুজনের মুখ বেঁধে ফেলে এবং আমাকে হত্যা করার চেষ্টা করে। তখন আমার স্বামী তাদের বলেন, তোরা তাকে না মেরে আমাকে মার। এই কথা শুনে ওরা আমার স্বামীকে হত্যা করে।’
পূর্বশত্রুতার জেরে তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি হালিমার।
খেদাপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আইসি এসআই আইনুদ্দীন বলেন,‘খবর পেয়ে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আমি ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। হালিমা আমাকে বলেছে,‘রাত নয়টার সময় সে পাশের এক বাড়িতে টেলিভিশন দেখতে যায়। তখন আকবার আলী তাকে সেই বাড়ি থেকে ডেকে আনে। পরে তারা একই খাটে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত একটার দিকে হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে যায় তার। ঘুম ভাঙ্গার পর হালিমা দেখতে পায় তার স্বামীর মুখ বাঁধা। পরে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তার স্বামী খুন হয়।
সকালে খবর পেয়ে হালিমার মেয়ে সোনিয়া আসে। এসেই শুরুতে সে তার মায়ের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে বলে,তোর কারণেই আমার বাপকে খুন হতে হলো। পরে সোনিয়া কথা ঘুরিয়ে নেয় বলে জানান এসআই আইনুদ্দীন।
এদিকে স্থানীয়দের ধারণা, রাতে হালিমার ঘরে অন্য লোক ঢোকে। বিষয়টি আকবার আলী টের পেয়ে যান। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তাকে খুন করা হয়েছে। পাশের ঘরে নিহতের ছেলে মিন্টু ঘুমিয়ে থাকলেও সে কিছুই টের পায়নি।
আকবারের ভাই আজগার আলী বলেন,‘আমার ভাই খুন হতে পারেন না। এরমধ্যে রহস্য আছে।’
মণিরামপুর থানার ওসি মোকাররম হোসেন বলেন,‘রহস্য উদঘাটনে নিহতের স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন