‘চাঁদাবাজ’ ছাত্রলীগ সেক্রেটারির বহিষ্কার চান নেতারা

আপডেট: 03:36:52 07/09/2018



img

আব্দুস সামাদ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সংগঠনের শৃংখলাবিরোধী কাজ, এমনকি ‘বিনা কারণে’ বিভিন্ন সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। আর এই অভিযোগ পৌঁছেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদকের কাছে। এসব অভিযোগ দিয়ে সাতক্ষীরা ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা জেলা সম্পাদক সৈয়দ সাদিকুর রহমানের বহিস্কার দাবি করেছেন। তাদের এই দাবি না মানা হলে তারা গণপদত্যাগ করবেন বলেও হুমকি দিয়েছেন।
তবে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাদিকুর রহমান এই সব অভিযোগকে ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ আখ্যা দিয়ে সভাপতিকে দুষছেন। তিনিও পাল্টা ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতাদের কাছে দেওয়া অভিযোগে বলা হয়, সাতক্ষীরা জেলা সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাদিকুর রহমান ছাত্রলীগে একজন অনুুপ্রবেশকারী। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন। চাঁদা দাবি করেন। না দিলে কমিটি ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেন। যে কারণে সাংগঠনিক কার্যক্রম প্রায় স্থগিত হয়ে পড়েছে। তার কারণে এই সংগঠনের প্রতি নেতাকর্মীরা আস্থা হারাচ্ছেন। তাকে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক শাস্তি হিসেবে সংগঠন থেকে বহিস্কার না করা হলে তারা সবাই গণপদত্যাগ করতে বাধ্য হবেন।
এ অভিযোগে স্বাক্ষরদাতাদের মধ্যে রয়েছেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি কাজী শাহেদ পারভেজ ইমন, সদর উপজেলা সভাপতি শাহিন আলম সাদ্দাম, কলারোয়া উপজেলা সভাপতি এসএম আবু সাঈদ, সাধারণ সম্পাদক শাকিল খান জজ, তালা উপজেলা সভাপতি শেখ সাদী, সাধারণ সম্পাদক মশিউল আলম সুমন, সাতক্ষীরা সিটি কলেজ সভাপতি মহিদুল ইসলাম, আশাশুনি উপজেলা সভাপতি আসমাউল হুসাইন, কালিগঞ্জ উপজেলা সভাপতি শেখ শাওন আহমেদ সোহাগ, শ্যামনগর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাকিম সবুজ, দেবহাটা উপজেলা সভাপতি হাবিবুর রহমান সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম হাফিজ প্রমুখ।
জানতে চাইলে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাদিকুর রহমান বলেন, ‘আমি কলারোয়ার সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে মাদক গ্রহণ ও আশাশুনির সভাপতির বিরুদ্ধে একই অভিযোগ করি। এ ছাড়া দেবহাটার কমিটির বয়স সাত বছর এবং এর সভাপতি ও সম্পাদক বিবাহিত ও তাদের ছেলেমেয়ে রয়েছে। এসব অভিযোগ করায় জেলা সভাপতি তাদের সংগঠিত করে বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন।’
তিনি বলেন, ‘আমিও পাল্টা অভিযোগ দিতে আশাশুনি ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ, কালিগঞ্জ সেক্রেটারি ফিরোজ, সদর সেক্রেটারি শাওন, জেলা দপ্তর সম্পাদক মৃণাল মণ্ডল, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ সেক্রেটারি আবুল কালাম, সিটি কলেজ সেক্রেটারি আলিফ, পলিটেকনিক কলেজ সভাপতি ও সেক্রেটারি মাহমুদুল ও শামীমসহ বেশ কয়েকজন নেতাকে নিয়ে ঢাকা যাচ্ছি।’
তবে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল ইসলাম রেজা বলছেন, ‘আমি সেক্রেটারির বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ সম্পর্কে কিছুই জানি না। আমিও ঢাকায় ছিলাম। কিন্তু কখন যে তারা কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে এসব অভিযোগ দিয়েছেন তাও জানি না।’
আরো জানার জন্য ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানিকে শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে ফোন দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুন