বাঘারপাড়ায় উৎসবমুখর পরিবেশ

আপডেট: 03:09:28 24/09/2017



img
img

চন্দন দাস, বাঘারপাড়া (যশোর) : মঙ্গলবার ষষ্ঠী পূজার মধ্যদিয়ে শুরু হচ্ছে বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ উৎসবকে ঘিরে আর সব স্থানের মতো বাঘারপাড়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
ইতিমধ্যে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা গড়ার মূল কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। এখন প্রতিমায় রঙ তুলির শেষ আচঁড় দেওয়ার কাজ করছেন ভাস্কররা। আলোকসজ্জার বর্ণালী সাজে সাজানো হচ্ছে পুজামণ্ডপ ও তার আশপাশের এলাকা। শাস্ত্রমতে এবার দেবী দুর্গা আসছেন নৌকায়, আর যাবেন ঘোড়ায় চড়ে।
বাঘারপাড়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক অরুণ অধিকারী জানান, এ বছর বাঘারপাড়া উপজেলায় মোট ৮৪টি মণ্ডপে শারদীয়া দুর্গাপূজা আয়োজিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে বাঘারপাড়া পৌরএলাকায় তিনটি, জহুরপুর ইউনিয়নে সাতটি, বন্দবিলা ইউনিয়নে ছয়টি, রায়পুর ইউনিয়নে নয়টি, নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নে ১৪টি, ধলগ্রাম ইউনিয়নে ১২টি, দোহাকুলা ইউনিয়নে পাঁচটি, দরাজহাট ইউনিয়নে আটটি, বাসুয়াড়ী ইউনিয়নে দশটি এবং জামদিয়া ইউনিয়নে দশটি মণ্ডপে পূজা হবে।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক মাখনলাল ঘোষ ও শচীন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে পালনের লক্ষে প্রতিটা মণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সক্রিয় থাকবেন। এ ব্যাপারে প্রশাসনের সঙ্গে পূজা পরিষদের সব ইউনিয়নের নেতাদের একাধিক সভা হয়েছে বলেও জানান তারা।
এদিকে উপজেলা সদরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের পূজা যাতে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, সে ব্যাপাওে নানা পদক্ষেপ প্রহণ করেছে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ও স্থানীয় প্রশাসন।
রায়পুর ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকর বিশ্বাস জানান, এ ইউনিয়নে এবার মণ্ডপের সংখ্যা একটি বেড়ে ১২টিতে উন্নীত হয়েছে। গতবারের তুলনায় এ বছর আলোকসজ্জা বাড়ানো হয়েছে।
একই কথা বলেন ধলগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান সুভাষ দেবনাথ অভিরাম।
তিনি বলেন, ‘অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর এ ইউনিয়নের প্রতিমা তৈরিতে বেশি খরচ ধরা হয়েছে। লক্ষ্য পূজাকে উৎসবমুখর করে তোলা।’
বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম বলেন, ‘দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে পালনের লক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পূজা চলাকালে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি টহল জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
সেক্ষেত্রে একাধিক টিম মাঠে থাকবে বলেও জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।