সাতক্ষীরায় বিপজ্জনক অবৈধ স্থাপনা

আপডেট: 01:29:54 17/07/2018



img

আব্দুস সামাদ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরা পৌরসভার মাত্র কয়েকশ’ হাত দূরে প্রাণ সায়ের খালের পাড়ে পৌরসভারই জমি দখল করে অবৈধভাবে দোতলা বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করেছে ‘পিকে ক্লাব’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান।
শুধু জমি দখলই নয়, ভবন নির্মাণে মানা হয়নি বিল্ডিং কোড। ৩৩ হাজার কেভি বিদ্যুতের লাইনের মধ্যদিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই ভবন। এতে দুর্ঘটনার আশংকা দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে প্রাণ সায়ের খাল পাড়ের সব অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়ে জমি দখলমুক্ত করা হয়। কিন্তু তার কয়েক বছর পরেই ফের পুরনো ডাক বাংলোর বিপরীতে প্রাণ সায়ের খালের জমি দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে একাধিক স্থাপনা। এর মধ্যে পিকে ক্লাব ৩৩ হাজার কেভি বিদ্যুতের লাইন ভেদ করে পৌরসভার জমি দখল করে দোতলা ভবন গড়ে তুলেছে।
এর নিচের তলা সাতক্ষীরা টাইল্স সেন্টার নামে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। উপরের তলা এখনো নির্মাণাধীন। কিন্তু দ্বিতীয় তলা তৈরি করা হয়েছে বিদ্যুতের ৩৩ হাজার কেভি লাইনের মধ্যদিয়ে। এতে যে কোনো সময় ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।
এ ব্যাপারে পিকে ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোমেন খান চৌধুরী শান্টু বলেন, পিকে ক্লাব জেলার ঐতিহ্যবাহী ও পুরনো একটি ক্লাব। এই ক্লাবের ক্রিকেট, ফুটবল এবং হকি খেলেয়াড়দের বসার জায়গা করতে ১৯৩৮ সালে পৌরসভার কাছ থেকে জায়গাটি লিজ নেওয়া হয়। জায়গার অভাবে লাইব্রেরি করা সম্ভব হচ্ছে না। এখন নিচের তলা সাতক্ষীরা টাইল্স সেন্টার ও আরো একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে পিকে ক্লাবের অবৈধ স্থাপনা ভেঙে দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তখন আমাদের কাগজপত্র হালনাগাদ করা ছিল না। এবং তৎকালীন মেয়র আমাদের বিরোধিতা করে স্থাপনা ভেঙে দিয়েছিল।’
তিনি দাবি করছেন, বিল্ডিং কোড মেনে ভবন তৈরি করা হয়েছে। ৩৩ হাজার কেভি বিদ্যুতের লাইন থেকে দূরত্ব বজায় রেখে ভবন তৈরি হয়েছে। তবে পাওয়ার হাউজ থেকে অনুমতি নেওয়া হয়নি।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) সাতক্ষীরার আবাসিক প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান বলেন, বিল্ডিং কোড অনুযায়ী পৌরসভার রাস্তার থেকে দশ ফুট দূরে যে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে হবে। তবে পিকে ক্লাব বিল্ডিং কোড মেনেছে কিনা সেটা দেখতে হবে। ৩৩ হাজার কেভি বিদ্যুতের লাইনের মধ্যে তাদের বিল্ডিং তৈরির কারণে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা পৌরসভার মেয়র তাসকিন আহমেদ চিশতি বলেন, ‘পৌরসভা থেকে পিকে ক্লাব ওই জমি লিজ নিয়েছে কিনা সেটা আমার জানা নেই। পৌরসভার সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পিকে ক্লাবের ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড মেনে না থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরও পড়ুন