মণিরামপুরে বিধবাকে মারপিটের অভিযোগ

আপডেট: 03:42:18 26/05/2018



img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : মণিরামপুরের ঢাকুরিয়ায় ‘ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাহিনী’ নিয়ে ‘বসতভিটা দখল করতে গিয়ে’ রোকেয়া বেগম (৬০) নামের এক বিধবাকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ধারণকৃত ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
এই ঘটনায় শুক্রবার রাতে আটজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন নির্যাতনের শিকার রোকেয়া বেগম।
এরআগে শুক্রবার বিকেলে ঘটনার মূলহোতা হিসেবে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলামকে আটক করে পুলিশ। শহিদুল ঢাকুরিয়া গ্রামের মৃত আনসার আলীর ছেলে।
হামলার শিকার ওই নারী ও তার স্বজনরা জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর প্রায় ৪০ বছর ধরে ঢাকুরিয়ায় বাবা বদিউজ্জামানের বাড়িতে ঠাঁই হয় রোকেয়ার। রোকেয়া ও তার দুইভাই বহুবছর আগে খালেক নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে জমি কিনে সেখানে বসবাস করে আসছেন। রোকেয়াদের বসতবাড়ি ঘেরা একখণ্ড জমি রয়েছে ফয়জুল্লা নামের এক ব্যক্তির। বছর দুই আগে শহিদুল ওই জমিটি কেনেন। গত সোমবার সকাল দশটার দিকে ভাড়াটে গুন্ডাবাহিনী নিয়ে শহিদুল ওই জমি দখল দিতে যান। কেনা জমি দখলের নামে তিনি বিধবা রোকেয়ার উঠোনের জমি দখলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তখন বাধা পড়লে শহিদুল ও তার সহযোগীরা রোকেয়াকে বেধড়ক মারপিট করেন।
রোকেয়ার স্বজনদের দাবি, তাদের বসতভিটা-সংলগ্ন যে জমিটি শহিদুল কিনেছেন, সেই জমি তারা নেওয়ার জন্য আদালতে গিয়েছিলেন। তারা ন্যায্যদামে শহিদুলের কাছ থেকে ওই জমি কিনতে চান। শহিদুল ওই জমি তাদের কাছে বিক্রি করবেন বলে সম্প্রতি স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে সমঝোতাও হয়েছিল। কিন্তু শহিদুল সেই সমঝোতা ভঙ্গ করে নিজেই ওই জমি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
তবে শহিদুলের পক্ষের লোকজনের দাবি, ওই জমি বিক্রির জন্য আগের মালিক ফয়জুল্লাহ রোকেয়া ও তার শরিকদের কাছে গেছেন। তারা প্রায় ১৫ দিন তাকে ঘুরিয়েছেন; কিন্তু জমি কেনেননি। পরে সেই জমি শহিদুলের কাছে বিক্রি করেন তিনি। শহিদুল তার নিজের জমি দখলে নিতে রোকেয়ারা বাধা দেয়। এরপর সেখানে গণ্ডগোল হয়।
মারপিটের ঘটনায় রোকেয়া বাদী হয়ে শহিদুলসহ তবিবর, ইউসুফ, বাবু, আহাদ, রবিউল, মোস্তাক ও কৃষ্ণ নামের আটজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন।
মণিরামপুর থানার এসআই জুয়েল রানা বলেন, ‘বিধবাকে মারপিটের ভিডিও দেখার পর মামলা নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় শহিদুল নামের একজন আটক রয়েছেন।’

আরও পড়ুন