মণিরামপুরে রাস্তার ইট তুলে নিলেন চেয়ারম্যান, দুর্ভোগ

আপডেট: 03:24:18 10/10/2017



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : মণিরামপুরের কাশিমনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিএম আহাদ আলীর বিরুদ্ধে ইউনিয়নের একটি সোলিং রাস্তার প্রায় দশ হাজার ইট তুলে নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। চেয়ারম্যানের এমন কাজের ফলে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। স্থানীয়দের মাঝে দানা বেঁধেছে ক্ষোভ।  মঙ্গলবার সকালে সরেজমিন গিয়ে রাস্তাটিতে কাদা জমতে দেখা গেছে।
তবে চেয়ারম্যান জিএম আহাদ আলীর দাবি, রাস্তাটি পাকা করার টেন্ডার হওয়ায় তিনি ইট তুলে নিয়েছেন। ইটগুলো দিয়ে ইউনিয়নের অন্য একটি রাস্তা সংস্কার হবে। যদিও উপজেলা প্রকৌশলীর অফিস রাস্তাটির টেন্ডারের বিষয়ে দুই ধরনের তথ্য দিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবির মুখে উপজেলার কাশিমনগর ইউনিয়নের লেবুগাতি মোড় থেকে লেবুগাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়মুখী সড়কটির ৫০০ ফুট ইট বসানো হয়েছিল প্রায় তিন বছর আগে। রাস্তাটিতে মোট দশ হাজার ইট ব্যবহার করা হয়েছিল বলে গ্রামবাসী জানান।
স্থানীয়রা বলছেন, সদ্য পালিত দুর্গাপূজার দুই দিন আগে সকালে হঠাৎ চেয়ারম্যান আহাদ আলি লেবুগাতি মোড়ে এসে কাউকে কিছু না বলে শ্রমিক দিয়ে রাস্তাটির ইট তোলা শুরু করান। ওই সময় উপস্থিত লোকজনের প্রশ্নে চেয়ারম্যান জানান, রাস্তার টেন্ডার হয়ে গেছে। তাই ওপর থেকে তার কাছে ফোন এসেছে ইট তুলে নেওয়ার জন্য। স্থানীয়রা চেয়ারম্যানকে পুজো ও বর্ষার শেষে ইট তুলতে অনুরোধ করেন। চেয়ারম্যান তাদের কথায় কান না দিয়ে ইট তুলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ।
স্থানীয়রা আরো জানান, রাস্তাটিতে আগে প্রচুর কাদা হতো। আমাদের দাবির মুখে বছর তিনেক আগে রাস্তাটিতে ইট ফেলা হয়েছিল। কিন্তু চেয়ারম্যান ইট তুলে নেওয়ায় রাস্তায় আবার কাদা হচ্ছে। পাশেই একটি মন্দির আছে। লোকজনকে কাদা মাড়িয়ে পুজোর সময় মণ্ডপে যেতে বেগ পেতে হয়েছে। তাছাড়া কাদা মাড়িয়ে ছোট ছোট বাচ্চাদের স্কুলে যেতে কষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান জিএম আহাদ আলী বলেন, ''হঠাৎ একদিন রাতে আমার কাছে ওপর থেকে একট ফোন আসে। ফোনে আমাকে জানানো হয়েছে, 'রাস্তাটির টেন্ডার হয়ে গেছে। আপনি ইটগুলো তুলে নিয়ে ইউনিয়নের আরেকটি রাস্তা মেরামত করেন।''
ইঞ্জিনিয়ার অফিসের গাউসুল আজমও তাকে ফোনে একই কথা বলেছেন। তাই ইট তুলে নেওয়া হয়েছে, দাবি চেয়ারম্যানের।
ইট তুলে কী করেছেন?-  এমন প্রশ্নে চেয়ারম্যান বলেন, 'পাশের গোয়ালপাড়ায় একটা রাস্তার কাজ করানো হবে। সেখানেই ইটগুলো রাখা হয়েছে।'
এদিকে স্থানীয় ঠিকাদার বিশ্বজিৎ দাস বলেন, 'ইউনিয়নের কালারহাট মোড় দিয়ে লেবুগাতি স্কুলের দিকে আসা রাস্তাটির টেন্ডার আমি পেয়েছি। আমার জানা মতে চেয়ারম্যান যেখান থেকে ইট তুলেছেন, সেই অংশের টেন্ডার এখনো হয়নি।'
উপজেলা প্রকৌশলীর অফিসের স্টাফ গাউসুল আজম বলেন, 'ইট তোলা অংশেরও টেন্ডার হয়েছে। ওটার কাজ অন্য ঠিকাদার পেয়েছেন। নতুন ইট উঠলেই কাজ শুরু হবে। ইট তুলে না নিলে ঠিকাদার ওই ইট নিজে ব্যবহার করতেন। তাই চেয়ারম্যানকে ইট তুলে নিতে বলা হয়েছে। তবে বর্ষা পার হলে চেয়ারম্যান ইটগুলো তুললে ভালো হতো।'
এদিকে, মণিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলী আবু সুফিয়ান বলেন, 'রাস্তাটির টেন্ডার হয়েছে কিনা এই মুহূর্তে আমার জানা নেই।'
মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান বলেন, 'লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

আরও পড়ুন