পেট্রাপোলে যাত্রী হয়রানি বন্ধের দাবি ভারতীয়দের

আপডেট: 12:49:20 15/08/2018



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে ভারত যাতায়াতকারী যাত্রীদের নানাভাবে হয়রানি করে চলেছে পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ। এ রকম আট ধরনের হয়রানির কথা উল্লেখ করে মঙ্গলবার পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিয়েছে ভারতীয় পেট্রাপোল চেকপোস্ট ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন।
তারা বলছে, কেবল বাংলাদেশিরাই নন, ভারতীয়রাও হয়রানি-লাঞ্ছনা আর মারধরের শিকার হচ্ছেন। অভিযোগের অনুলিপি বিভিন্ন দপ্তরেও সরবরাহ করা হয়।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে ১. মাল্টিপল ভিসায় বাংলাদেশি যাত্রী যেদিন ভারতে যান পরদিন তাকে দেশে ফিরতে দেওয়া হয় না। পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ যাত্রীকে আরো একদিন থেকে আসতে বলে। মাল্টিপল ভিসার ক্ষেত্রে কেনো এমন বলা হবে? ২. ঢাকা-কলকাতা-আগরতলা রুটের বাসের যাত্রীরা প্রথমবার ভারতে যাওয়ার সময় অবস্থানের ঠিকানা সঠিকভাবে বলতে না পারলে তাদের ‘এন্ট্রি রিফিউজড’ সিল মারা হয় না। কিন্তু সাধারণ যাত্রীদের ক্ষেত্রে ‘এন্ট্রি রিফিউজড’ সিল মেরে ফেরত পাঠানো হচ্ছে; ৩. বাংলাদেশি যাত্রীদের এক বছরের মাল্টিপল ভিসায় একজন যাত্রী প্রতিদিন যাতায়াত করার নিয়ম থাকলেও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাদের পাঁচ থেকে দশ দিন ভারতে অবস্থানের কথা বলছে।  প্রতিবাদ করলে মারধরের শিকার হতে হয়; ৪. ঢাকা-কলকাতা সরাসরি যাত্রীবাহী বাসের কোনো যাত্রীকে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসে তল্লাশি ও পাসপোর্টের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে লাইনে দাঁড়াতে হয় না। কিন্তু সাধারণ যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হয়; ৫. ভারতীয় যাত্রীদের বাংলাদেশে প্রবেশের সময় ইমিগ্রেশনে ডকুমেন্ট নিয়ে হয়রানি এমনকি মারধরও করা হচ্ছে; ৬. ইমিগ্রেশন অফিসাররা অকারণে বাংলাদেশি-ভারতীয় সবার সঙ্গে প্রচণ্ড দুর্ব্যবহার করে থাকেন; ৭. বাংলাদেশি নারী যাত্রীকে ভারতে প্রবেশের সময় তার মোবাইল নম্বর নেওয়া হয়। মাঝে মধ্যে দুই-তিন ঘণ্টা অফিস রুমে বসিয়ে নানা জেরা করা হয়; ৮. বাংলাদেশি যাত্রী এক বছরের ভিসায় নিয়ম অনুযায়ী ভারতে ঢুকে এক নাগাদ তিন মাস থাকতে পারবেন, যা ভিসায় উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু ফেরার সময় তার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কোনো অভিযোগ না থাকা সত্তে¡ও জেরা এবং পরবর্তীতে এক মাসের মধ্যে আর ভারতে প্রবেশে নিষেধ করা হচ্ছে। ফলে যারা চিকিৎসার জন্য যেতে চান তারা আর যেতে পারছেন না। ভারতীয় হাইকমিশন সবকিছু যাচাই-বাছাই করেই তো ওই যাত্রীকে ভিসা দিয়েছে।
এই অভিযোগগুলো তদন্ত করে নিরসনের দাবি জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন।
এ ব্যাপারে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘অহেতুক হয়রানি বন্ধ করতে পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অনুরোধ জানানো হলেও তারা কর্ণপাত করছে না। বেনাপোল ইমিগ্রেশনে স্বল্পসময়ে যাত্রীদের পাসপোর্টের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়ে থাকে। কিন্তু পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে হয়রানির অভিযোগ করেন ফেরত আসা যাত্রীরা। বিষয়টি তাদের বলা ছাড়া আমাদের কিছুই করার নেই।’

আরও পড়ুন