মণিরামপুরে হামলায় আট নারীসহ আহত ১৪

আপডেট: 10:49:34 17/10/2017



img
img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : মণিরামপুরে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় নারী-পুরুষসহ অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার মশ্মিমনগর ইউনিয়নের নোয়ালী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে ১১ জনকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন, নওয়ালী গ্রামের সাখাওয়াত গাজীর স্ত্রী মনোয়ারা বেগম, তাদের মেয়ে স্বপ্না, রওশন আলীর স্ত্রী মালতি, মৃত আকসেদ গাজীর ছেলে মজি গাজী, মৃত রহমত উল্যাহর ছেলে মাইঝে নেদা, রওশন আলী গাজীর ছেলে আহাদ আলী গাজী, প্রবাসী আব্দুল কুদ্দুসের স্ত্রী সাথী প্রমুখ। আহতদের মধ্যে আটজনই নারী।
অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আহতদের মধ্যে স্বপ্না নামে একজনকে ঢাকায় রেফার করেছেন যশোর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকরা।
এরআগে সোমবার সকালে একই ঘটনায় মনিরা (২০) নামের একজনকে মণিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আজব গাজী জানান, নওয়ালী গ্রামের সাখাওয়াত গাজীর ছাদের পানি সরকারি সোলিং রাস্তার ওপর পড়ে। তাছাড়া পূর্বে সাখাওয়াত গাজী তার প্রতিবেশী আব্দুল হাইয়ের গাছের ডাল কেটে নেয়। এসব নিয়ে বহুদিন ধরে সাখাওয়াতের পরিবারের সঙ্গে আব্দুল হাইয়ের পরিবারের বিরোধ। সোমবার সকালে এসব নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে আব্দুল হাইয়ের স্ত্রী মর্জিনা সাখাওয়াতের পুত্রবধূ মনিরাকে মারধর করে। পরে বাড়ি ফিরে মনিরার স্বামী আব্দুল্লাহ এসব শুনে মর্জিনাকে ধরে এনে মারে। তখন মনিরাকে মণিরামপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আর মর্জিনা ভর্তি হন যশোর জেনারেল হাসপাতালে। যদিও মেম্বারের ভাষ্যমতে, মর্জিনার আঘাত গুরুতর ছিল না।
মেম্বার আজব আলী বলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুরের দিকে মর্জিনা তার দুই ছেলে ইমরুল ও ইমামুলসহ লোকজন নিয়ে যশোর থেকে এসে হকিস্টিক নিয়ে সাখাওয়াতের পরিবারের ওপর হামলা করে। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে তাদেরও মারধর করে ইমরুল ও ইমামুল। দুই ভাইসহ তাদের লোকজনের হামলায় ১৩ জন আহত হন। এদের মধ্যে ১১ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বাকি দুইজন আহাদ আলী ও সাথী গ্রামে চিকিৎসা নিয়েছে।’
ইমরুল ও ইমামুল যশোরে হোস্টেলে থেকে কলেজে লেখাপড়া করেন বলে জানান মেম্বার।
মেম্বার আজব আলী আরো বলেন, ‘মর্জিনার স্বামী আব্দুল হাই ২-৩ বছর আগে মারা গেছেন। তখন মর্জিনা পাশের বাড়ির সাখাওয়াতের ভাই আব্দুল গফুরকে বিয়ে করেন। পরে অবশ্য তাদের সংসার টেকেনি। মূলত এই ঘটনা নিয়েই মর্জিনা ও তার দুই ছেলের সঙ্গে সাখাওয়াতের পরিবারের শত্রুতা।’
উপজেলার রাজগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইন্সপেক্টর আকরাম হোসেন চৌধুরী মারামারির ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘মারামারির কথা শুনে আমি ঘটনাস্থলে যাই। আমি পৌঁছানো মাত্রই আহতদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি ছেড়ে যায়। ফলে তাদের সাথে কথা বলার সুযোগ হয়নি।’

আরও পড়ুন