সাতক্ষীরায় মাছের আড়তে দাঁড়িপাল্লা, ঠকছেন চাষি

আপডেট: 02:52:35 05/11/2017



img

আব্দুস সামাদ, সাতক্ষীরা : প্রশাসনের নির্দেশের তোয়াক্কা না করে জেলার মাছ বাজারগুলোতে ব্যবহার করা হচ্ছে দাঁড়িপাল্লা। ব্যবসায়ীরা ডিজিটাল স্কেল ব্যবহার না করে দাঁড়িপাল্লায় মাছ কেনায় চাষিদের মণপ্রতি ফাঁকি দিচ্ছেন চার থেকে পাঁচ কেজি। কিছু অসাধু আড়ত মালিকেরা দিনের পর দিন মাছ চাষিদের ফাঁকি দিয়ে আঙুল ফুলে কলাগাছ হলেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন।
বাজার-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল থেকে জেলার সব মাছ বাজার/আড়তে সনাতন দাঁড়িপাল্লার পরিবর্তে ইলেক্ট্রনিক স্কেল ব্যবহার করার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলার মৎস্য ব্যবসায়ী, সব উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা মৎস্য অফিসার ও সব উপজেলা মৎস্য অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশ মোতাবেক ২৮ এপ্রিল শহরের সুলতানপুর বড়বাজার ও ১৭ মে বিনেরপোতা মাছ বাজারে ইলেক্ট্রনিক স্কেল উদ্বোধন করা হয়। একইভাবে জেলার বিভিন্ন উপজেলার মাছের বাজারগুলোতে ইলেকট্রনিক স্কেলের ব্যবহার উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু পরে সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বড়বাজার ছাড়া অন্য বাজারগুলোতে এ কার্যক্রম বন্ধ করে দাঁড়িপাল্লায় মাছ কিনতে দেখা যায় আড়তদারদের।
মাছ চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাতক্ষীরা সদরের বিনেরপোতা মাছ বাজার, আশাশুনির মহেশ্বরকাটি, হাড়িভাঙ্গা, মহিষকুড়, মাড়িয়ালা, বদরতলা, শালখালী, চাম্পাফুল কালীবাড়ি, পাইথালি, কাদাকাটি, তেঁতুলিয়া, তোয়ারডাঙ্গা, বিছট, তালতলা মাছবাজার, দেবহাটার পারুলিয়া ও গাজীরহাট মাছবাজার, কালিগঞ্জের নলতা, কালিগঞ্জ বাজার, মৌতলা ও বাঁশতলা বিষ্ণপুর মাছবাজার, শ্যামনগরের সোনার মোড়, বুড়িগোয়ালিনী, মুন্সিগঞ্জ, নূরনগর ও ভেটখালি, তালার দলুয়া, খেশরা, শ্রীমন্তকাটি, মাছিয়াড়া ও কলারোয়া মাছ বাজারসহ ছোট বড় শতাধিক মাছের বাজারে বহু আড়ত রয়েছে। এসব বাজারে ইলেকট্রনিক স্কেলের পরিবর্তে দাঁড়িপাল্লা ব্যবহার করা হয়। কিছু অসাধু মাছ ব্যবসায়ী পাশে ইলেকট্রনিক স্কেল রেখে মাছ চাষিদের জিম্মি করে দাঁড়িপাল্লায় মাছ বেচতে বাধ্য করছেন। এতে চাষিদের কাছ থেকে মণপ্রতি ৪-৫ কেজি মাছ বেশি নেওয়া হচ্ছে।
এ নিয়ে চাষিদের মনে ক্ষোভ থাকলেও তারা আড়তদারদের হাতে জিম্মি বলে জানান।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাসেম মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘ইলেকট্রনিক স্কেল ব্যবহার না করা দি স্ট্যান্ডার্ড অব মেজার্স অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২-এর পরিপন্থী। ইলেকট্রনিক স্কেল উদ্বোধনের পরও সব বাজারে দাঁড়িপাল্লা ব্যবহার করা হচ্ছে বলে আমাদের কাছে অভিযোগ আছে। দুই-এক দিনের মধ্যে এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'

আরও পড়ুন