সাতক্ষীরায় শিশু পাচারকারী নারীর যাবজ্জীবন

আপডেট: 09:32:34 18/07/2018



img

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রীকে পাচারের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে এক নারীর যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হোসনে আরা আক্তার এ রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামি হলেন মোছা. আফরোজা ওরফে তাছলিমা খাতুন। তিনি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপাজেলার পরানপুর গ্রাম, বর্তমানে কালিগঞ্জ উপজেলার রতনপুর গ্রামের নুর ইসলামের মেয়ে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, পরানপুর গ্রামের এক দিনমজুরের পাঁচ বছরের মেয়ে ৮৬ নম্বর পরানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণিতে পড়তো। ২০০৩ সালের ৬ মার্চ সকাল আটটার দিকে বাড়ি থেকে স্কুলে যায় সে। স্কুল শেষে সে আর বাড়ি ফেরেনি। সহপাঠী ময়না ও টুম্পার মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, স্কুল শেষে তাকে ‘খালা পরিচয়ে’ এক নারী মাঠ থেকে ডেকে নিয়ে যায়। জানতে পেরে ইউপি চেয়ারম্যান জিএম আব্দুল করিম এলাকায় মাইকিং করার ব্যবস্থা করেন। রাত দশটার দিকে বৈশখালি গ্রামের লোকজন আফরোজাকে আটক করলেও কয়েকজন পালিয়ে যায়। এ সময় উদ্ধার করা হয় ওই শিশুকে।
এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ওই শিশুর দাদা বাদী হয়ে আফরোজা খাতুন, রতনপুর গ্রামের বাবু, বাবলু ও আবু হান্নানের নাম উল্লেখ করে পরদিন শ্যামনগর থানায় একটি মামলা করেন। ২০০৩ সালের ৩০ জুন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্যামনগর থানার উপপরিদর্শক ফয়সাল জামান এজাহারভুক্ত আসামিদের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
দশজন সাক্ষীর জবানবন্দি ও মামলার নথি পর্যালোচনা শেষে আসামি আফরোজা খাতুনের বিরুদ্ধে পাচারের অভিযোগ সন্দোহতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে উপরোক্ত কারাদণ্ডাদেশ দেন। অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর তিনজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।
আসামি আফরোজা পলাতক রয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট জহুরুল হায়দার বাবু।

আরও পড়ুন