বাঘারপাড়ায় ফের সংঘাতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ

আপডেট: 07:56:42 13/03/2018



img
img
img

বাঘারপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি: আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সোমবার যশোরের বাঘারপাড়া ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা লাঠি-সোটা ও লোহার রড নিয়ে পরস্পরকে ধাওয়া করে।
খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল স্থানীয় চৌরাস্তা মোড়ে এসে লাঠিচার্জ করে উত্তেজিত নেতা-কর্মীকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় শরিফ নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে বাঘারপাড়া চৌরাস্তা মোড়ের স্বর্ণপট্টি এলাকায় উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি বায়েজিদ হোসেনের সমর্থক তামিম নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে মারপিট করে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বর্তমান পৌর যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক এনায়েত হোসেন লিটনের লোকজন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বায়েজিদের সমর্থকরা লাঠি-সোটা নিয়ে চৌরাস্তা মোড়ে অবস্থান নেয়। এ সময় থানা পুলিশের এএসআই নিয়ামুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদেরকে নিবৃত করে এবং লাঠি-সোটা কেড়ে নিয়ে যান। এর পাঁচ মিনিট পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে লিটন গ্রুপের অর্ধ শতাধিক কর্মী লাঠি-সোটা নিয়ে হাসপাতাল গেট এলাকা থেকে চৌরাস্তা মোড়ে এসে প্রতিপক্ষকে ধাওয়া করে। এই পরিস্থিতিতে বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল আলমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় আটক করা হয় লিটন গ্রুপের কর্মী শরিফকে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি বায়েজিদ হোসেন বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। ব্যক্তিগত কাজে যশোর শহরে অবস্থান করছিলাম। নেতা-কর্মীরা ফোন করে সব জানিয়েছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, তামিম বাঘারপাড়া ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসতে চাওয়ায় তারা ওপর হামলা হয়েছে। দলের স্বার্থে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিরসনে সমঝোতা বৈঠকে বসতে প্রস্তুত আছেন বলেও জানান বায়েজিদ।
অন্যদিকে এনায়েত হোসেন লিটন বলেন, ‘আমি মারামারি-হানাহানিতে বিশ্বাসী নই। উত্তেজিত নেতা-কর্মীরা তামিমকে লাঞ্ছিত করেছে। আমার লোকজনকে আমি নিবৃত করার চেষ্টা করেছি।’
উস্কানিমূলক বক্তব্যের কারণে আজকের ঘটনা ঘটছে বলে মনে করেন লিটন।
বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল আলম ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটকের কথা নিশ্চিত করে জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ‘বিশৃংখলা সৃষ্টিকারী যেই হোক, তার ক্ষমা নেই’ বলেও উল্লেখ করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি উল্লিখিত দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় বায়েজিদের ব্যক্তিগত অফিসে তালা লাগিয়ে দেয় লিটন গ্রুপের লোকজন। অফিসের কয়েকটি ছবি ভাংচুরও করা হয়। এ ঘটনার বদলা নিতে একই দিন বায়েজিদ গ্রুপের লোকজন তাদের প্রতিপক্ষ গ্রুপের আস্তানা হাসপাতাল গেটের রাসেল স্মৃতি সংসদে ভাংচুর চালায়। এ সময় সংগঠনটির আসবাবপত্র ভাংচুর করে হামলাকারীরা। এ ঘটনায় বায়েজিদ ও লিটনকে আটকও করেছিল পুলিশ।

আরও পড়ুন