মণিরামপুরে দুই মাস বাড়িছাড়া প্রবাসীর স্ত্রী

আপডেট: 06:49:57 17/09/2017



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : দুই মাস ধরে নিজের বাড়িতে উঠতে পারছেন না মণিরামপুরের এক গৃহবধূ। শালিসের নামে তাকে বাড়িছাড়া করেছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা।
প্রবাসীর স্ত্রী এই নারীর বিরুদ্ধে নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ আনা হয়। যদিও তিনি তা অস্বীকার করেন। শালিস বৈঠকে তাকে থাপ্পড় মেরে অপদস্থও করা হয় বলে অভিযোগ।
রোববার সরেজমিন এসব তথ্য জানা গেছে। শরিফুননেছা নামে ওই নারীর বাড়িও তালাবদ্ধ দেখা যায়।
শরিফুননেছা দাবি করেন, গত চার বছর ধরে তার স্বামী রফিকুল ইসলাম মালয়েশিয়ায় কর্মরত আছেন। তিনি কলেজপড়ুয়া মেয়ে ও মাদরাসাপড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে কাশিমপুরে স্বামীর ভিটায় থাকতেন। শরিফুননেছার দেবর মিজানুর রহমানও বিদেশে থাকতেন। প্রায় এক বছর আগে মিজানুর বাড়িতে ফেরেন। মিজানুরের স্ত্রী ও তিন মেয়ে থাকার পরও শরিফুননেছার ওপর তার কুনজর পড়ে। শরিফুননেছাকে তিনি বিভিন্ন সময়ে কুপ্রস্তাব দেন। শরিফুননেছা এতে রাজি হননি। বিষয়টি শরিফুননেছা তার ননদ হালিমার স্বামী রবিউলকে জানানোর জন্য একই উপজেলার কেসমত চাকলা গ্রামে রবিউলের বাড়িতে যান। এতে ক্ষিপ্ত হন মিজানুর। রবিউলের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ এনে মাস দুয়েক আগে গ্রাম্য শালিস বসান মিজানুর। এতে সহযোগিতা করেন স্থানীয় গ্রামপুলিশ আমিনুর। শালিসের এক পর্যায়ে ওই ওয়ার্ডের মেম্বর শিল্পী ঘটনাস্থলে হাজির হন। শালিস চলাকালে প্রতিনি শরিফুননেছার গালে চড় মারেন।
শরিফুননেছার অভিযোগ, এরপরই মিজানুর ও আমিনুর ঘরে তালা দিয়ে তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। সেই থেকে ছেলে-মেয়েকে নিয়ে বাপের বাড়িতে আছেন তিনি। কয়েকদিন আগে তার কলেজপড়ুয়া মেয়ে ওই বাড়িতে বই আনতে গেলে তাকে মেরে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন শরিফুননেছা। আমিনুর ও মিজানুরের ভয়ে তিনি আইনের আশ্রয় নিতে পারছেন না বলে অভিযোগ।
এদিকে, অভিযোগ করা হচ্ছে, শরিফুননেছার ওই ঘর দখলে নিয়েছেন তার ননদ হালিমা।
শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি, শরিফুনছেরা কারণেই হালিমার সংসার ভাঙতে বসেছে। যতদিন হালিমা স্বামীর বাড়ি যেতে পারবে না ততদিন শরিফুননেছা ওই বাড়িতে উঠতে পারবেন না।
হালিমা উপজেলার মশ্মিমনগর ইউনিয়নের কিসমত চাকলা গ্রামের জনৈক রবিউল ইসলামের স্ত্রী। রবিউলের সঙ্গে শরিফুননেছার অবৈধ সম্পর্কের জেরে হালিমার সংসার টিকছে না বলে দাবি তার শ্বশুর পক্ষের লোকজনের। আর এই অভিযোগেই শরিফুননেছাকে বাড়িছাড়া করা হয়েছে।
তবে, স্থানীয়রা বলছেন, শরিফুননেছার সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে তা ঠিক না। মিজানুর ও আমিনুরসহ মেম্বর প্রভাবশালী হওয়ায় তারা মুখ খুলতে পারছেন না।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মিজানুর সাংবাদিকদের ওপরে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
স্থানীয় গ্রামপুলিশ আমিনুর বলেন, ‘শালিসের দিন আমি বাড়িতে ছিলাম না। তাছাড়া ওই মহিলার চরিত্র ভালো না।’
বিষয়টি নিয়ে লেখালিখি না করার জন্য তিনি অনুরোধ করেন।
ইউপি সদস্য আমিনুল হাসান শিল্পী শালিসে প্রকাশ্যে থাপ্পড় মারার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘শরিফুননেছা আমার ভাইজি। শালিসকারীরা সবাই তার বিরুদ্ধে ছিল। তাই পরিস্থিতি শান্ত করতে আমি তাকে আস্তে করে একটা থাপ্পড় মেরেছি।’
মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় রবিউলের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
মণিরামপুর থানার ওসি মোকাররম হোসেন বলেন, ‘ওই নারীকে থানায় অভিযোগ করতে বলেন। ঘটনা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন