সাতক্ষীরায় দশ টাকার চাল বিতরণে গুরুতর অনিয়ম

আপডেট: 07:05:58 18/03/2018



img

আব্দুস সামাদ, সাতক্ষীরা : সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় প্রতি কেজি দশ টাকা দরে চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁশদহা ইউনিয়নে।
ওই ইউনিয়নে এই কার্ড যাদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে দালান বাড়ির মালিক, ধনী লোকও রয়েছেন। বিদেশে চাকরিরত ব্যক্তির পরিবার, জমির মালিক, হোটেল মালিকসহ ব্যবসায়ীরাও এই কার্ড পেয়েছেন। তারা ডিলারের কাছ থেকে দশ টাকা কেজি দরের চাল কিনছেনও। যদিও এই কার্ড পাওয়ার কথা হতদরিদ্রদের।
তবে ইউপি চেয়ারম্যান এসব অভিযাগ অস্বীকার করে বলছেন, প্রতিপক্ষের লোকজন এসব ‘অপপ্রচার’ করছে।
এদিকে, চাল নিতে আসা কার্ডধারীরা অভিযোগ করে বলেন, তাদের কাছ থেকে ১০০ টাকা নগদ নিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এজন্য এলাকায় আগে থেকে মাইকিং করে বলা হচ্ছে সঙ্গে টাকা আনতে। যিনি টাকা আনতে পারছেন না, তাকে চাল দেওয়া হচ্ছে না বলে জানান তারা।
ইউনিয়নের একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, কার্ডধারীদের তালিকায় রয়েছেন বাঁশদহা ইউপি সদস্য মোশাররফ হোসেনের তিন মেয়ে। কার্ডধারী নাজিরা খাতুন এলাকার ধনী ব্যক্তি লিয়াকত হোসেনের স্ত্রী। বিদেশে চাকরিরত এবাদুল ইসলামের স্ত্রী নাসিমা খাতুন, ধনী ব্যক্তি আবদুল মোতালেবের ছেলে মুরাদ, আমজাদের স্ত্রী আকলিমা খাতুন, আবদুল গনির ছেলে দেলোয়ার হোসেন, তলুইগাছার আবদুর রহমান, বাকাউল্লাহর ছেলে সলেমান ভাগ্যবান কার্ডধারী। তবে আবদুল খালেক গরিব হয়েও কার্ড পাননি। ভিন্ন পরিবারে বসবাস করা তার ধনী ছেলে আবুল বাসার এই কার্ড পেয়েছেন। কার্ড পেয়েছেন ধনী ব্যক্তি আমিনুর রহমান ও ভ‚মি জরিপকারী মো. আলাউদ্দিন।
স্থানীয়রা জানান, চেয়ারম্যানের নিকটাত্মীয় বিশেষ করে খালাতো ভাই, চাচাতো ভাই, ফুফাতো ভাইয়ের পরিবারও কার্ড পেয়েছেন। চেয়ারম্যানের আত্মীয় হওয়ায় ভিন্ন ইউনিয়নের সাতানি গ্রামে বাস করেও দশ টাকা দরের চালের কার্ড পেয়েছেন শফিকুল ইসলাম।
বাঁশদহা ইউনিয়নের দুইজন ডিলার আনসার আলি ও খোরশেদ আলম লাবলুর মাধ্যমে প্রায় এক হাজার ২০০ কার্ডধারীকে এই চাল দেওয়া হচ্ছে। ডিলাররা জানান, ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফের লোকজন টাকা নেয়। ডিলাররা ৩০০ টাকা নিয়ে ৩০ কেজি চাল বিতরণ করছেন বলে জানান।
কার্ড বিতরণে অনিয়ম এবং কার্ডধারীদের কাছ থেকে ১০০ টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বাঁশদহা ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘নতুন কার্ডে ওসব নাম নেই।’
তার ইউনিয়নে কতজনকে কার্ড দেওয়া হয়েছে সেই হিসেব অবশ্য তিনি দিতে পারেননি। বলেছেন, ইউপি সচিব জানেন। সচিবের মোবাইল নম্বরও তার ‘জানা নেই’ বলে দাবি করেন।
উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা সুজিতকুমার মুখার্জী জানান, জেলায় এক লাখ ২৮ হাজার ৮৩১ জনের নামে কার্ড ইস্যু করা হয়েছে।
বাঁশদহা ইউনিয়নে অনিয়ম প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যাতে কোনো অনিয়ম বা টাকা আদায় না করা হয়, সে বিষয়ে চেয়ারম্যানকে আমি সতর্ক করে দিয়েছি।’

আরও পড়ুন