সাতক্ষীরায় অধ্যক্ষসহ ১২ শিক্ষক দুই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত

আপডেট: 01:22:42 07/11/2017



img

আব্দুস সামাদ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরা সিটি কলেজের অধ্যক্ষসহ ১২ শিক্ষকের বিরুদ্ধে একইসঙ্গে দুই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে দুই প্রতিষ্ঠান থেকেই তারা আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিটি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক মিম সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১৩ বছর আগের কর্মস্থল ঝাউডাঙ্গা কলেজ থেকে এমপিওভুক্তির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। দুটি কলেজের হাজিরা খাতায় গত ছয় বছর ধরে তার উপস্থিতির স্বাক্ষর রয়েছে বলে দাবি করেছেন দুই কলেজের অধ্যক্ষ। এই কলেজের একাধিক শিক্ষক বিভিন্ন সরকারি কলেজেও শিক্ষকতা করছেন বলে অভিযোগ তুলে অধ্যক্ষসহ অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের দাবি উঠেছে সংক্ষুব্ধ শিক্ষকদের পক্ষ থেকে।
সাতক্ষীরা সিটি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক হিসেবে ১১ সালে যোগ দেন মিম সাইফুল ইসলাম। এর আগে তিনি ঝাউডাঙ্গা কলেজে একই বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন ২০০৪ সালের মার্চ মাসে। ঝাউডাঙ্গা কলেজে পদত্যাগপত্র জমা না দিয়ে তিনি সিটি কলেজে যোগ দেন বলে দাবি সিটি কলেজ অধ্যক্ষের। এরপর থেকে তিনি ছয় বছর ধরে দুটি কলেজের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে আসছেন।
সম্প্রতি ঝাউডাঙ্গা কলেজে ওই পদে এমপিওভুক্তির সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় তিনি সিটি কলেজ থেকে পদত্যাগ না করেই ঝাউডাঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষকে ‘ম্যানেজ’ করে এমপিওভুক্তির জন্য কাগজপত্র তৈরি করান। পরে সুপারিশসহ কলেজ সভাপতি এমপির কাছে তা পাঠিয়ে দেন।
এ বিষয়ে ঝাউডাঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান তার কলেজে সাইফুল ইসলামের উপস্থিতি রয়েছে বলে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘আইনগত সমস্যা না থাকলে তাকে এমপিওভুক্ত করা হবে।’
তবে মিম সাইফুল ইসলাম ঝাউডাঙ্গা কলেজের খাতাপত্রে তার স্বাক্ষর নেই বলে দাবি করেন। বলেন, তিনি ঝাউডাঙ্গা কলেজে পদত্যাগ করেই সিটি কলেজে যোগ দেন।
এদিকে, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক রুনা লায়লা গত বছরের ৪ ডিসেম্বর সিটি কলেজে শূন্যপদে যোগ দেন। এর পরপরই তার এমপিওভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) পাঠান কলেজ অধ্যক্ষ আবু সাঈদ। সিটি কলেজে কর্মরত অবস্থায় তিনি চলতি বছরের ১ মার্চ শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের ৪৩ নম্বর হেঞ্চি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এরপর তিনি সিটি কলেজে ও হেঞ্চি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই সঙ্গে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেছেন। চলতি বছরের পহেলা মে এমপিওভুক্তির খবর পেয়ে তিনি গত ১৫ জুন হেঞ্চি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অব্যাহতি নেন। ১২ জুন তিনি হেঞ্চি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক মাসের বেতন নয় হাজার ৭০০ টাকা সোনালী ব্যাংক শ্যামনগর শাখার মাধ্যমে ফেরত দেন।
চাকরিবিধি অনুযায়ী একইসঙ্গে দুটি শূন্যপদে কাজ করার সুযোগ নেই। একটি পদে অব্যাহতি নিয়ে অন্য পদে যোগদান করার নিয়ম থাকলেও রুনা লায়লা তা করেননি বলে অভিযোগ।
সূত্র জানায়, সিটি কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মুরাদ মাহমুদ চুকনগরের মাসুদ মেমোরিয়াল কলেজে, সমাজকল্যাণ বিভাগের প্রভাষক গৌরচন্দ্র মণ্ডল চুকনগরের মাসুদ মেমোরিয়াল কলেজে, কৃষি ডিপ্লোমা শাখার প্রভাষক আব্দুল জলিল শহরতলীর কদমতলায় একটি মেডিকেল ইনস্টিটিউটে, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আজিম খান শুভ সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজে, রসায়নের আবু জাফর সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজে, উদ্ভিদবিদ্যার প্রভাষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান দাঁতভাঙ্গা কলেজে, বাংলার প্রভাষক আশরাফুল হক ছফুরন্নেছা মহিলা কলেজে, হিসাববিজ্ঞানের প্রভাষক অরুণকুমার সরকার ইসলামিয়া মহিলা কলেজে চাকরি করে যাচ্ছেন।
এ ছাড়া ইসলামি শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক আমিমুল এহসানসহ কয়েকজন মাদরাসা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন বলে অভিযোগ আছে।
একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরির বিষয়ে সিটি কলেজের অধ্যক্ষ আবু সাঈদ বলেন, ‘কলেজ সভাপতির অনুমতি নিয়েই আমি ননএমপিও ডিবি খান হোমিও কলেজে পার্টটাইম শিক্ষকতা করি।’
অন্য শিক্ষকদের একাধিক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক বিধানচন্দ্র দাস সিটি কলেজে পদত্যাগ না করেই আশাশুনি সরকারি কলেজে যোগ দিয়েছেন। তাকে নোটিস দেওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে এই মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন।’

আরও পড়ুন