মণিরামপুর হাসপাতালে নবজাতক গায়েব

আপডেট: 02:27:22 15/08/2018



img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি নবজাতক (ছেলে) রেখে পালিয়েছেন তার গর্ভধারিণী মা।
মঙ্গলবার বিকেলে হাসপাতালের ডেলিভারি কক্ষে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর তিনি নবজাতকটিকে ফেলে পালিয়ে যান। রাতে বিষয়টি জানাজানি হলে হাসপাতালের নার্স হ্যাপি রায় ও আয়া পুর্ণিমা কুণ্ডু নবজাতকটিকে গায়েব করে ফেলেন। পুরো ঘটনাটি হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে ধরা পড়েছে।
এদিকে নবজাতক গায়েবের ঘটনার সঙ্গে হাসপাতালে আরেক নার্স ঝরনারানী ও আয়া কাকলিরানী জড়িত আছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বুধবার সকালে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নবজাতকটির কোনো সন্ধান পায়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে এই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নার্স হ্যাপি রায় ও ঝরনারানীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।
হাসপাতালের অনেকেরই ধারণা, বাচ্চাটি হয়তোবা কোনো নারীর অপকর্মের ফসল। নিজের অপকর্ম ঢাকতে তিনি বাচ্চা রেখে পালিয়ে গেছেন। যার সবকিছু জানেন নার্স হ্যাপি ও ঝরনা এবং আয়া কাকলি ও পূর্ণিমা।
হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডের ২৮ নম্বর বেডের রোগী সালেহা বেগম বলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুর একটার দিকে বোরখাপরা এক নারীকে নিয়ে ডেলিভারি রুমে ঢোকেন নার্স ও আয়া। এরপর বিকেল তিনটার দিকে ওই মহিলা বেরিয়ে যান। সন্দেহ হলে আমরা ভেতরে গিয়ে দেখি ওই কক্ষের বেডে নাকে অক্সিজেন লাগানো একটি বাচ্চা শোয়ানো আছে। এরপর রাত সাড়ে আটটার দিকে বাচ্চার কান্নার শব্দ পেয়ে দৌড়ে গিয়ে দেখি রুমে কেউ নেই। বালতির মধ্যে তুলো জড়ানো অবস্থায় বাচ্চাটি উপুড় করে রাখা আছে। আমি দ্রুত বাচ্চাটিকে কোলে নিই। এরপর একজন নার্স ও আয়া পূর্ণিমা এসে আমার কোল থেকে বাচ্চাটি কেড়ে নিয়ে যায়।’
হাসপাতালের দায়িত্বরত নার্স নাজমুন নাহার বলেন, ‘রাত আটটার সময় হ্যাপির ডিউটি শেষ হয়। আমি তার কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার সময় সে আমাকে ওই বাচ্চা সম্পর্কে কিছু জানায়নি। এরপর লেবার রুমে গিয়ে দেখি একটা বাচ্চা বেডে শোয়ানো। আমি দ্রুত এসে হ্যাপির কাছে বিষয়টি জানতে চাই। তিনি আমাকে খোলসা করে কিছু বলেননি। সাথে সাথে বিষয়টি জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক রাজিবকুমার পালকে জানাই। ততক্ষণে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান হ্যাপি। পরে আবার হ্যাপিকে ডেকে আনা হলে আয়া পূর্ণিমা ও হ্যাপি বাচ্চা নিয়ে যায়। এরপরে কী হয়েছে বলতে পারব না।’
আয়া পূর্ণিমা বলেন, ‘আমি দোতলা থেকে বাচ্চা নিয়ে নিচে হ্যাপি আপার কাছে দিয়েছি।’
এই বিষয়ে জানতে চাইলে নার্স হ্যাপি রায় স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। তিনি বলেন, যাদের বাচ্চা তারা নিয়ে গেছেন। তবে বাচ্চার পিতা-মাতার পরিচয় জানাননি তিনি।
হ্যাপির ভাষ্য, ওই নারীর আগের তিন ছেলে রয়েছে। এবারেরটা ছেলে হওয়ায় স্বামীর নির্যাতন করবে- এই ভয়ে তিনি বাচ্চাটি রেখে গেছেন।
জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক রাজিবকুমার পাল বলেন, ‘ডেলিভারির জন্য আসা কোনো রোগীর নাম-ঠিকানা হাসপাতালের রেজিস্ট্রারে নেই। বাচ্চাটি বেওয়ারিশ। রাতে বিষয়টি জানাজানি হলে নার্স হ্যাপি ও আয়া পূর্ণিমা বাচ্চা সরিয়ে ফেলে। বিষয়টি আব্দুল গফ্ফার স্যার জানেন।’
মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুল গফ্ফার বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ঘটনার সাথে জড়িত নার্স হ্যাপি রায় ও ঝরনারানীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। যার প্রধান করা হয়েছে ডাক্তার রাজিবকুমার পালকে। কমিটি এক সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করবে।’

আরও পড়ুন