জাতিসংঘের বিবৃতিতে মিয়ানমারের অসন্তোষ

আপডেট: 01:52:35 08/11/2017



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর সহিংসতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ যে বিবৃতি দিয়েছে, তাতে প্রত্যাবাসন প্রশ্নে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনায় বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছে মিয়ানমার।
দেশটির নেত্রী অং সান সু চি বুধবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, কেবল বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের দ্বিপক্ষীয় চেষ্টাতেই এ সমস্যার সমাধান আসতে পারে বলে তার দেশ বিশ্বাস করে। 
বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারের ওই রাজ্যে সেনাবাহিনীর দমন অভিযান শুরুর পর গত ২৫ আগস্ট থেকে সোয়া ছয় লাখ রোহিঙ্গা মুসলমান পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। গত দশ সপ্তাহে রোহিঙ্গাদের গ্রামে গ্রামে ওই সহিংসতাকে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ হিসেবে চিহ্নিত করে এর সমালোচনা করে আসছে জাতিসংঘ।
রোহিঙ্গা সঙ্কটের অবসানে সোমবার নিরাপত্তা পরিষদে আলোচনার পর সর্বসম্মতভাবে একটি বিবৃতি (প্রেসিডেন্সিয়াল স্টেটমেন্ট) দেওয়া হয়, যেখানে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়- রাখাইন রাজ্যে যাতে সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ বন্ধ করা হয়, মিয়ানমার সরকারের প্রতি সেই আহ্বান জানাচ্ছে নিরাপত্তা পরিষদ।
সেই সঙ্গে রাখাইনে বেসামরিক প্রশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে এবং মানবাধিকার রক্ষার অঙ্গীকার ও দায় পূরণে মিয়ানমার সরকারকে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ।
এর জবাবে বুধবার মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর সু চির দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, নিরাপত্তা পরিষদের ওই প্রেসিডেন্সিয়াল স্টেটমেন্ট বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে চলমান আলোচনার জন্য ‘মারাত্মক ক্ষতিকর’ হতে পারে।  
বাংলাদেশ বরাবরই বলে আসছে, মানবিক কারণে আপাতত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হলেও তাদের অবশ্যই মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে হবে। এ সমস্যার পেছনে বাংলাদেশের কোনো ভূমিকা নেই; সমস্যার সৃষ্টি ও কেন্দ্রবিন্দু মিয়ানমারে, সমাধানও সেখানে নিহিত।
আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার মধ্যে মিয়ানমার ১৯৯২ সালের প্রত্যাবাসন চুক্তির আওতায় দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থাপনায় রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলেছে। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘকে যুক্ত করাসহ কয়েকটি প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রস্তাবের কোনো জবাব না দিয়েই গত ৩১ অক্টোরব রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে দেরির জন্য উল্টো বাংলাদেশকে দোষারোপ করেন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর সু চির দপ্তরের মহা পরিচালক জ তাই।
তবে এ মাসের শুরুতে মিয়ানমার ও বাংলাদেশে এসে সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে নিজের চোখে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি দেখে যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিমন হেনশ বলেছেন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা মিয়ানমার সরকারেরই দায়িত্ব।
আর কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন (সিপিএ) এক সর্বসম্মত প্রস্তাবে রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে জরুরি পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
বহুপক্ষীয় উদ্যোগের বিরোধিতায় সু চি তার বিবৃতিতে বলেছেন, এ বিষয়ে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের আলোচনা ‘মসৃণভাবে ও প্রত্যাশা অনুযায়ীই’ চলছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীকে আগামী ১৬ ও ১৭ নভেম্বর মিয়ানমার সফরের আমন্ত্রণ জানানোর কথাও সু চি বলেছেন।  
মাহমুদ আলীর এক দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের মিয়ানমারে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। রাখাইনে সহিংসতা বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে দেশটির সেনাবাহিনী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি প্রস্তাবও ওয়াশিংটন বিবেচনা করছে।  
রোহিঙ্গা সঙ্কটের অবসানে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স সোমবার নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব পাসের উদ্যোগ নিলেও মিয়ানমারের দুই মিত্র দেশ ভেটো ক্ষমতার অধিকারী রাশিয়া ও চীনের কারণে তা শেষ পর্যন্ত বাদ দেওয়া হয়।
সে প্রসঙ্গ টেনে সু চি তার বিবৃতিতে বলেছেন, সার্বভৌম রাষ্ট্রের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার’ বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে জোরালো অবস্থান নিয়েছে একটি রাষ্ট্র। মিয়ানমার তাদের ওই অবস্থানকে সাধুবাদ জানায়।
সূত্র : বিডিনিউজ

আরও পড়ুন