নিশ্চিহ্ন দরগাহমহল

আপডেট: 08:04:51 23/11/2017



img
img

এস এম আলাউদ্দিন সোহাগ, পাইকগাছা (খুলনা) : পাইকগাছায় কপোতাক্ষের ভয়াবহ ভাঙনে পর্যায়ক্রমে ছয়টি গ্রামের পাঁচ শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। মানচিত্র থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে সম্পূর্ণ দরগামহল গ্রামটি।
শুধু বাপ-দাদার ভিটেমাটিই নয়, ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে কবরস্থান, মসজিদ, মাদরাসা, মন্দির। এক সময়ের জমিদারসহ গৃহহারা মানুষেরা আশ্রয় নিয়েছেন রাস্তার পাশে, ভেড়িবাঁধের ওপর কিংবা কারো বসতভিটায়।
গত প্রায় এক দশকে কপোতাক্ষের অব্যাহত ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তরা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে একের পর এক আবেদন-নিবেদন করলেও সমস্যা সমাধানে তাদের পাশে এসে দাঁড়ায়নি কেউ। তারা বলছেন, একদিকে নদের নাব্য হ্রাস আর গতিপথ পরিবর্তনে ভাঙনের মুখে পড়েছে কপোতাক্ষ পাড়ের হাজারো মানুষ। ইতিমধ্যে সরকার ২৬২ কোটি টাকা খরচ করে কপোতাক্ষ খনন করছে। তবে নদের গতিপথ পরিবর্তন ঠেকানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
কথা হয়, দরগামহলের বাসিন্দা সৈয়দ সালাম উল্লাহর সঙ্গে। তিনি জানান, বসতভিটেসহ তিনি প্রায় আড়াই বিঘা সম্পত্তি হারিয়েছেন কপোতাক্ষের ভাঙনে।
প্রায় ২৫ বিঘা জমির মালিক ছিলেন শেখ আবু বক্কর। বসতভিটেসহ সব সম্পত্তি আগ্রাসী কপোতাক্ষ গিলে খেয়েছে।
বাস্তুভিটে, ফসলিসহ প্রায় ১২ বিঘা জমির মালিক ছিলেন শেখ আবদুল মান্নান। গত প্রায় এক দশকে চোখের সামনেই কপোতাক্ষ তার সব কিছু গ্রাস করেছে।
উপজেলার হরিঢালীর সোনাতনকাটি, মাহমুদকাটি, রামনাথপুর, কপিলমুণির শিলেমানপুর, মালথ, হাবিবনগর, দরগাহমহলের বিস্তীর্ণ এলাকা ইতিমধ্যে কপোতাক্ষের ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। বিশেষ করে মানচিত্র থেকে একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে দরগাহমহল গ্রামটি। কোনো কিছুই অবশিষ্ট নেই সেখানে। বিদ্যুতের খুঁটিগুলোও দাঁড়িয়ে রয়েছে পড়ে যাওয়ার অপেক্ষায়।
প্রসঙ্গত, এর আগে পাইকগাছা-খুলনা প্রধান সড়ক ভাঙনের কবলে পড়লে পাশের জমি অধিগ্রহণ করে সড়কটি পুনঃনির্মাণ করা হয়। কিন্তু ভাঙনকবলিত সাধারণ মানুষের দিকে ফিরে তাকায়নি কেউ।
ভুক্তভোগীরা জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করলেও কোনো কাজ হয়নি। সর্বশেষ এলাকাবাসীর গণস্বাক্ষরযুক্ত একটি আবেদন খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য বরাবর দেওয়া হয়। কিন্তু এখনো এর কোনো ফল মেলেনি।

আরও পড়ুন