জামায়াতের টার্গেট যে ৪৩ আসন

আপডেট: 02:41:38 17/11/2018



img

নূর মোহাম্মদ : তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছে নিবন্ধন হারানো দল জামায়াতে ইসলামী। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতির কথা বললেও বিকল্প হিসেবে আরো দুই ক্যাটাগরিতে ১০৮টি আসন থেকে মনোনয়ন ফরম কিনছে দলটি। তিন ক্যাটাগরির প্রার্থীর মধ্যে ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরিতে ৪৩টি এবং বাকিগুলো ‘বি’ ও ‘সি’ ক্যাটাগরির প্রার্থী। শেষ পর্যন্ত ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরির ৪৩টি আসন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে দরকষাকষি করছে দলটি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে জামায়াতের নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, 'দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় আমরা নির্বাচন করতে প্রস্তুত। দলের সেক্রেটারি মনোনয়ন ফরম কিনে এর আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছেন। দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আপাতত ৬০টি আসনের মনোনয়ন ফরম কেনার জন্য প্রার্থীদের বলা হয়েছে। যেহেতু জোটগত নির্বাচন হবে তাই আমরা যা চাইবো সব তো  পাওয়া যাবে না! শরিকদের ছাড় দিতে হবে। শেষ পর্যন্ত কতগুলো আসন পাওয়া যায় তার জন্য অপেক্ষা করছি।'
তিনি বলেন, 'চরম প্রতিকূলতার মধ্যে এবার নির্বাচন করতে হচ্ছে। তারপরও দেশ ও জনগণের স্বার্থে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'
জামায়াত নেতারা জানান, এক বছর আগে থেকে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করা হয়েছে। দলটি বিভাগীয়, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি আরো দুই মাস আগে সেরে রেখেছে। বিভাগীয় পর্যায়ে নির্বাচনী কার্যক্রম সমন্বয় করার জন্য দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রংপুর বিভাগে দলের দপ্তর সম্পাদক মাওলানা আব্দুল হালিম, রাজশাহীতে কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম খান, খুলনায় নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার, সিলেটে দলের সেক্রেটারি ডা. শফিকুর রহমান (ফজলুর রহমান নামে একজন সমন্বয় করছেন) আর চট্টগ্রামে সাবেক এমপি শামসুল ইসলাম। তারা সারা বছর দলের সাংগঠনিক সফর করে দলের নির্বাচন ও আন্দোলনের প্রস্তুতির বার্তা কর্মীদের দিয়েছেন। এরই অংশ হিসেবে গত মাসে গ্রাম ও কেন্দ্রভিত্তিক কর্মীদের তালিকা তৈরি, পোলিং এজেন্টদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনের জন্য বিভাগীয় সম্মেলন লাগে না। তবে নির্বাচনের জন্য এলাকাভিত্তিক থানা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যায়ে এজেন্ট নিয়োগ দেওয়া, তাদের প্রশিক্ষণ এগুলো শেষ করা হয়েছে। সবাই এখন প্রচারণায় ব্যস্ত।

যেসব আসন থেকে নির্বাচন করতে চায় জামায়াত
মঙ্গলবার দলের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ (কাফরুল-মিরপুর) আসনের মনোনয়ন ফরম কিনে দলের নির্বাচনী যাত্রার আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন। এরপর সারা দেশে নেতারা মনোনয়ন ফরম কেনা শুরু করেছেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দলের ৫০-এর অধিক প্রার্থী মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।
‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন কক্সবাজার-২ (কুতুবদিয়া-মহেশখালী)হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি ২০০৮ সালের দশম সংসদে এমপি ছিলেন। চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) মাওলানা জহিরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম-১০ (ডাবলমুরিং) আসনে শাহজাহান চৌধুরী। তিনি ২০০১ সালে এমপি ছিলেন। চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া) আসনে মাওলানা শামসুল ইসলাম। তিনিও ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদের এমপি ছিলেন। কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর-সদর আংশিক) আসনে মাস্টার রুহুল আমীন, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে ডা. আনোয়ারুল আজিম, ফেনী-৩ আসনে শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক মনোনয়ন কিনেছেন। বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ মনোনয়ন কিনেছেন।
নেতারা জানান, বৃহত্তর নোয়াখালী, ফেনী, চাঁদপুর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এ প্লাস ক্যাটাগরির কোনো আসন নেই। লক্ষ্মীপুর সদরে প্রার্থী থাকলেও হেভিওয়েট না হওয়ায় তাদের মনোনয়ন অনেকটা ঝুঁকিতে রয়েছে। এ অঞ্চলের নেতারা ভিন্ন সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করায় জামায়াত-শিবিরের মূল স্রোত থেকে অনেকটা দূরে।
এ প্লাস ক্যাটাগরিতে আরো রয়েছে ঝিনাইদহ-৩ (মহেশপুর-কোটচাঁদপুর) আসনে অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, যশোর-১ (শার্শা) আসনে মাওলানা আজিজুর রহমান, যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনে আবু সাঈদ মুহাম্মদ শাহাদত হোসাইন, যশোর-৫ আসনে গাজী এনামুল হক, যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে অধ্যাপক মুক্তার আলী, সিলেট-৫ (জৈন্তাপুর-কানাইঘাট) সাবেক এমপি মাওলানা ফরীদ উদ্দিন চৌধুরী, সিলেট-৬, (বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ) মাওলানা হাবিবুর রহমান, গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে অধ্যাপক মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্যাপুর-পলাশবাড়ী) আসনে মাওলানা নজরুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও-২ (বালিয়াডাঙ্গী-হরিপুর) আসনে মাওলানা আবদুল হাকিম, পাবনা-১ (সাঁথিয়া-বেড়া) আসনে ডা. আবদুল বাসেত, পাবনা-৪ (আটঘরিয়া-ঈশ্বরদী) আসনে অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল, পাবনা-৫ (সদর) আসনে অধ্যক্ষ ইকবাল হোসাইন, সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া-সলঙ্গা) আসনে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে দবিবুর রহমান, চাঁপাই নবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনে ড. কেরামত আলী, চাঁপাই নবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম বুলবুল, রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, নাটোর-১ আসনে অধ্যাপক তাসনিম আলম, নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে খ ম আবদুর রাকিব, কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনে মুহাম্মদ আবদুল গফুর, চুয়াডাঙ্গা-২ (দামুড়হুদা-জীবননগর) আসনে মোহাম্মদ রুহুল আমিন, বাগেরহাট-৩ (মোংলা-রামপাল) আসনে অ্যাডভোকেট আবদুল ওয়াদুদ, খুলনা-৫ (ফুলতলা-ডুমুরিয়া) আসনে সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) মাওলানা আবুল কালাম আযাদ, সাতক্ষীরা-১ (কলারোয়া-তালা) আসনে অধ্যক্ষ ইজ্জতুল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ (সদর) আসনে মুহাদ্দিস আবদুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-দেবহাটা) আসনে মুফতি রবিউল বাশার, সাতক্ষীরা-৪ (কালিগঞ্জ-শ্যামনগর) আসনে গাজী নজরুল ইসলাম, পিরোজপুর-১ (সদর-নাজিরপুর-স্বরূপকাঠি) আসনে শামীম সাঈদী, দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনে মাওলানা আবু হানিফ, দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর) আসনে মাওলানা আফতাব উদ্দিন মোল্লা, দিনাজপুর-৬ (নবাবগঞ্জ-বিরামপুর-হাকিমপুর ঘোড়াঘাট) আসনে আনোয়ারুল ইসলাম, নীলফামারী-১ আসনে মাওলানা আবদুস সাত্তার, ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে অধ্যাপক জসিম উদ্দিন।
লালমনিরহাটে একটি এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় দলের সহকারী সেক্রেটারি মো. কামারুজ্জামান ও সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় শেরপুর-১ ও ফরিদপুর-৩ আসনে শক্তিশালী কোনো প্রার্থী না থাকায় চলতি বছর এ দুটি আসনে প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
একটি সূত্র বলছে, শেষ পর্যন্ত ১৫ থেকে ২০টি আসন জামায়াতকে দিতে পারে জোট।
সূত্র : মানবজমিন

আরও পড়ুন