শ্রমিকদের পাওনা মেটাচ্ছে এ্যাজাক্স জুটমিল

আপডেট: 03:15:27 17/08/2018



img

খুলনা অফিস : সারাদেশে বিভিন্ন জুটমিলের শ্রমিকরা যখন নায্য বেতন-ভাতার দাবিতে আন্দোলন করছেন ঠিক তখন বন্ধ থাকা এ্যাজাক্স জুটমিলের শ্রমিকদের পাওনা বেতন-ভাতা পরিশোধ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মিল মালিক আব্দুল মান্নান তালুকদার।
বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা মহানগরীর মীরেরডাঙ্গায় এ্যাজাক্স জুটমিলের প্রশাসনিক ভবনের সামনে মিলের শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বকেয়া পাওনার একটি অংশ পরিশোধ করা হয়।
শ্রমিকদের চেক প্রদানপূর্ব মুহূর্তে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন বেসরকারি পাট, সুতা ও বস্ত্রকল শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব জাহাঙ্গীর আলম সবুজ, এ্যাজাক্স জুটমিলের মহাব্যবস্থাপক আব্দুল আলিম, প্রশাসনিক কর্মকর্তা দিনার মালিক, মিলের নন সিবিএ শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি ইমরান মীর, সিবিএ’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বকতিয়ার শিকদার, সহকারী সেক্রেটারি আজহার বাওয়ালি, ক্যাশিয়ার মোহাম্মদ রায়হান।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বেসরকারি পাট, সুতা ও বস্ত্রকল শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব জাহাঙ্গীর আলম সবুজ বলেন, ‘শ্রমিকদের নায্য পাওনা প্রদানের জন্য সাবিল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মান্নান তালুকদারকে আমরা ধন্যবাদ জানাই। আশা করি তিনি পর্যায়ক্রমে সকল শ্রমিকদের সমুদয় পাওনা বুঝিয়ে দিবেন।’
এ্যাজাক্স জুটমিলের মহাব্যবস্থাপক আব্দুল আলিম বলেন, ‘সাবিল গ্রুপ মিলটির দায়িত্বভার গ্রহণের পর আমরা শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পাওনা বুঝিয়ে দিতে শুরু করি। এখন পর্যন্ত ১৬ শতাধিক শ্রমিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে তাদের সম্পূর্ণ পাওনা বুঝিয়ে দিয়েছি। এ ঈদে মোট ৫৭৬ জন শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে চেক ও নগদ অর্থ প্রদান করা হচ্ছে।’
সাবিল গ্রæপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এ্যাজাক্স জুটমিলের মালিক আব্দুল মান্নান তালুকদার বলেন, ‘ব্যাংক ঋণ ও বিভিন্ন দেনায় জর্জরিত মিলটি হাতে নেওয়ার পর থেকে আমি সোনালী ব্যাংক, বিদ্যুৎ ও সিটি করপোরেশনের অনেক পাওনা পরিশোধ করেছি। শ্রমিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরও অনেক টাকা পরিশোধ করেছি। পর্যায়ক্রমে সকল শ্রমিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সব পাওনা দিয়ে দিব। তারপর এ মিলটি আমরা চালু করব। মিলটি উৎপাদনে গেলে এখানে পাঁচ হাজারের অধিক মানুষের কর্মসংস্থান হবে।’
সাথে সাথে মিলের উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি করে দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে চারবার মিলটির মালিকানা বদল হয়। কিন্তু মালিকপক্ষ শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দেয়নি। পরে শ্রমিকদের আন্দোলন, মিলে লোকসানসহ বিভিন্ন কারণে ২০১৪ সালের ২১ মে বন্ধ হয়ে যায় প্রতিষ্ঠানটি। এতে দুই হাজারের বেশি শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েন। ফলে মানবেতর জীবন শুরু হয় শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের।
পরে ২০১৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর সাবিল গ্রুপ মিলের দায়িত্ব নেয়। এরপর ২০১৬ সালের ১৪ জানুয়ারি মিল চত্বরে শ্রমিক সমাবেশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে মিলের দায়িত্ব বুঝে নেয় সাবিল গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পর্যায়ক্রমে মিলের শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করে আসছে তারা।