পাইকগাছায় টাকা হাতিয়ে উধাও কোম্পানির কর্তা

আপডেট: 03:16:35 15/10/2017



img

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি : প্রতারণার ফাঁদে ফেলে পাইকগাছার ৪৭ জন পোল্ট্রি খামারির কাছ থেকে প্রায় ৩৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে ‘ইডিপি মিনি হ্যাচারি’ নামে একটি কোম্পানির তিন কর্মকর্তা উধাও হয়ে গেছেন। এদের মধ্যে একজন অবশ্য গ্রেফতার হয়েছেন।
তবে খামারিরা টাকা ফিরে পাননি। ফলে অনেকের খামার বন্ধের উপক্রম হয়েছে।
খামারিদের অভিযোগ, উপজেলার আগড়ঘাটা বাজারে প্রায় ছয় মাস আগে ‘ইডিপি মিনি হ্যাচারি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় খোলেন কয়েক ব্যক্তি। ওই প্রতিষ্ঠানের শচীন্দ্রনাথ ভক্ত ও আমিনুল করিম খামারিদের সঙ্গে ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী প্রতি হাজার সোনালি মুরগির বাচ্চার বিপরীতে ৬০ হাজার টাকা করে জামানত দেন খামারিরা। কোম্পানি তাদের মুরগি বিক্রির উপযুক্ত হওয়া পর্যন্ত খাবার, ওষুধসহ সবকিছুর খরচ বহন করবে। বিক্রিকালে খামারিরা প্রতি কেজি মুরগিতে ৩৩ টাকা করে কমিশন পাবেন।
তারা বলছেন, কিন্তু কোম্পানির কর্মকর্তা পরিচয়দানকারী আমিনুল করিম ও শচীন্দ্রনাথ ভক্ত গত ৭ অক্টোবর পালিয়ে যান। ফলে মাথায় হাত পড়ে খামারিদের।
খামারিরা জানান, তাদের মধ্যে ছরমান চার লাখ ৮৮ হাজার ৬০০, দীপ এক লাখ ২০ হাজার, ফরিদ গাজী এক লাখ, মিন্টু মোড়ল এক লাখ ৭৫ হাজার, ফটিক এক লাখ ২০ হাজার, মশিউর রহমান দুই লাখ ২০ হাজার, শফিকুল ইসলাম তিন লাখ ৫০০, উদয় সাধু ৪৮ হাজার, পিয়াস এক লাখ ৫০ হাজার, মিরাজুল ইসলামের ৯০ হাজার, মুজাহিদ ৬৪ হাজার, মোবারেক ঢালীর তিন লাখ ১৫ হাজার, হিরো এক লাখ, মাহতাব ৯০ হাজার, ইমদাদুল সাড়ে ২২ হাজার, সুদাম সাধু ৩৬ হাজার, মোজাফফার পাঁচ লাখ ৪০ হাজার, সালমা বেগম সাড়ে ২২ হাজার, হিল্লোল ৬০ হাজার, মদন সাধু এক লাখ ২০ হাজার, রওশানারা ৬০ হাজার, মিঠুন ৯০ হাজার, আনোয়ার হোসেন ৪৫ হাজার, মিলন ৮৩ হাজার ও মহসিনের ৯০ হাজার টাকা দিয়েছেন কোম্পানিকে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পরিচয়ধারী সাইদুল করিম ফোনে জানান, শচীন্দ্রনাথ এই কোম্পানির অর্ধেক শেয়ারের মালিক। তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ইতিমধ্যে তার ভাই খায়রুল আমিন খুলনা থেকে গ্রেফতার হয়েছেন। আমিনুল করিমকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
‘খামারিদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা শচীন্দ্রনাথ দিতে বাধ্য থাকবে। সেখানে আমার কোনো দায়ভার নেই,’ বলেন সাইদুল।