খুলনাঞ্চল থেকে ৫৭২ কোটি টাকার চিংড়ি রপ্তানি

আপডেট: 02:34:11 22/10/2018



img

জিয়াউস সাদাত, খুলনা : মৌসুমের আট মাস আবহাওয়া ছিল প্রতিকূলে। দাবদাহ, শৈত্য প্রবাহ ও পানির স্বল্পতা ছিল মৌসুমজুড়ে। মৌসুমের শুরুতেই পোনার সংকট। খামারিদের অর্থের অভাব বরাবরই। এতো কিছুর পরও বাগদা ও গলদা চিংড়ির উৎপাদন ও রপ্তানি দুটির অবস্থাই ভালো দক্ষিণাঞ্চলে। এবার ৫৭২ কোটি টাকা মূল্যের হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি হয়েছে ১৯ দেশে।
জেলায় প্রতি মৌসুমে ৭০০ কোটি গলদা ও বাগদা পোনার চাহিদা রয়েছে। কক্সবাজার ও সাতক্ষীরার হ্যাচারিগুলোতে মৌসুমে ১০০ কোটি পোনা উৎপাদন হয়। বাকি পোনার ঘাটতি রয়ে যায়। ২০১৮ সালের প্রথম দিকে শৈত্যপ্রবাহের কারণে খামারে ছাড়া বেশকিছু পোনা মারা যায়। এপ্রিল-মে মাসে দাবদাহের কারণে রোগ-বালাই দেখা দেয়। জুন মাসে ২৬৬ ও জুলাই মাসে ২৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। যা ২০১৭ সালের বর্ষা মৌসুমের তুলনায় অর্ধেক। পানির স্বল্পতার কারণে বাগদা চিংড়ির ওজন কিছুটা কম হয়।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু ছাইদ জানান, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩৬ হাজার ১৫২ হেক্টর জমিতে ১২ হাজার ৪১২ মেট্রিক টন বাগদা, ২০ হাজার ৩৪ হেক্টর জমিতে ১৩ হাজার ৬৬৬ টন গলদা এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৩৬ হাজার ১৬০ হেক্টর জমিতে ১২ হাজার ৪৬৩ টন বাগদা ও ২০ হাজার ৩৪ হেক্টর জমিতে ১৩ হাজার ৬৮০ টন গলদা উৎপাদন হয়। প্রতিক’ল আবহাওয়ার মধ্যেও জেলার ৬৯ হাজার খামারি কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন পেয়েছেন। তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও পানির স্বল্পতা থাকলেও উল্লেখযোগ্য রোগবালাই দেখা দেয়নি।
ডুমুরিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সরোজকুমার মিস্ত্রী জানান, উপজেলার রংপুর, গুটুদিয়া, ভান্ডারপাড়া ইউনিয়নে গলদা, আটলিয়া, সাহস, শোভনা ও মাগুরখালী ইউনিয়নে বাগদা উৎপাদন বেশি হয়েছে। ২০১৭ সালে এখানে ১১ হাজার ৮৮৮ টন বাগদা ও গলদা উৎপাদন হয়। এবছর ৩৪২ টন বেশি উৎপাদন হয়েছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্রবন্দর দিয়ে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ অঞ্চল থেকে তিন হাজার ৮২৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি হয়। গত অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছিল ৫৭২ কোটি ৪০ লাখ টাকার। বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, রাশিয়া, ইতালি, স্পেন, সাইপ্রাস, জার্মানি, ডেনমার্ক, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি হচ্ছে।
রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘কসমস সী ফুড’-এর প্রতিনিধি আমিরুল ইসলাম জানান, চীনে বাংলাদেশের হিমায়িত চিংড়ির নতুন বাজার সৃষ্টি হয়েছে। লকপুর ফিস, মডাসি সী ফুড, ব্লাসিক সী ফুড, আলফা সী ফুড এবং কসমস সী ফুড চীনে হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি করছে। ২০ পিসে এক পাউন্ড ওজনের চিংড়ি ছয় ডলার এবং ২৫ পিসে এক পাউন্ড ওজনের মাছ পাঁচ ডলার মূল্যে বিক্রি হচ্ছে।
ডুমুরিয়া উপজেলার জিলেরডাঙ্গা গ্রামের চিংড়িচাষি সুজিত মণ্ডল জানান, পানির স্বল্পতা সত্তে¡ও স্থানীয় টিয়াবুনিয়া বিলে চিংড়ি উৎপাদন সন্তোষজনক। তিনি এবার ছয় একর জমিতে বাগদা ও গলদা চিংড়ি উৎপাদন করেছেন বলে জানান।

আরও পড়ুন