পাইকগাছায় দেড় মাসে চার ‘গায়েবি মামলা’

আপডেট: 03:45:35 29/10/2018



img

এস এম আলাউদ্দিন সোহাগ, পাইকগাছা (খুলনা) : পাইকগাছায় গত দেড় মাসে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চারটি নাশকতার মামলা হয়েছে।
বোমা বিস্ফোরণ, পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে এসব মামলা করেছে। তবে বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা এগুলোকে ‘গায়েবি মামলা’ বলছেন। মামলা চারটিতে জামায়াত-বিএনপির ২৩৪ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ এ পর্যন্ত ২৭ জনকে আটক করেছে। বেশিরভাগ আসামি আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন।
দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো পাইকগাছায়ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নামে পুলিশ একের পর এক মামলা করে চলেছে। গ্রেফতার এড়াতে বিরোধী দলের বেশিরভাগ নেতাকর্মী এলাকা ছেড়েছেন। অনেকে এলাকায় থাকলেও সাবধানে চলাচল করছেন।
থানা পুলিশের সূত্র মতে, সবশেষ মামলাটি হয় ২৭ অক্টোবর। এ মামলায় ৩২ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ২৫-৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। যার মধ্যে উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক, জামায়াত, বিএনপি ও ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাকর্মীরা রয়েছেন। এ মামলায় পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে।
এর আগে ১৫ অক্টোবর দায়ের করা হয় আরেকটি মামলা। এ মামলায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ ও ৩০-৪০ জনকে অজ্ঞাত আাসামি করা হয়। এ মামলায়ও পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করে।
গত ২৬ অক্টোবর একইরকম একটি মামলা করে। এ মামলায় ৩৩ জনের নাম উল্লেখ ও ৫০-৬০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। চারটি মামলার মধ্যে এ মামলার বেশিরভাগ আসামি হলেন, জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। পুলিশ এ মামলায় চারটি বোমা ও শিবিরের ব্যবহৃত ল্যাপটপ, কথিত জিহাদি বই ও নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র উদ্ধারের দাবি করে।
এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর সাম্প্রতিক সময়ের প্রথম নাশকতার মামলা হয়। মামলায় ৩০ জনের নাম উল্লেখ ও ১২০-১৩০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। এ মামলায় পুলিশ চার ব্যক্তিকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করে।
এসব মামলা প্রসঙ্গে থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বিপ্লব দাবি করেন, ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের মতো আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকার কতিপয় ব্যক্তি পুলিশকে চাপে রাখতে ও সরকারকে বিপাকে ফেলতে এবং দেশের স্বাভাবিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে নাশকতার মতো অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। তবে পুলিশ অতীতের মতো এবারো সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। ফলে পুলিশ ‘দুর্বৃত্তদের’ বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে।
থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) প্রবীণ চক্রবর্তী জানান, মামলার বেশিরভাগ আসামি আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন। আর যেসব আসামি জামিনে থাকেন তাদেরকে গ্রেফতার করার কোনো সুযোগ থাকে না। তবে সর্বশেষ মামলার আসামিদের গ্রেফতার করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
তবে স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন, তাদের বিরুদ্ধে রুজু করা মামলাগুলো ‘গায়েবি’। সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য উদ্দেশ্যেপ্রণোদিতভাবে এসব কাল্পনিক মামলা দেওয়া হয়েছে। তারা কোনো নাশকতার সঙ্গে যুক্ত নন।

আরও পড়ুন