বাল্যবিয়ে ও মাদকের খবর দিলেই মিলবে লোড

আপডেট: 01:26:07 15/08/2018



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : মণিরামপুরের কোনো এলাকায় বাল্যবিয়ে ও মাদকসেবী বা কারবারির খবর দিলেই সংবাদদাতার মোবাইলে ৫০ টাকা লোড দেবে উপজেলা প্রশাসন। বাল্যবিয়ে ও মাদকের ভয়াবহতারোধে এমন ঘোষণা দিয়েছেন মণিরামপুরে ইউএনও হিসেবে সদ্য যোগদানকারী মো. আহসান উল্লাহ শরিফী।
এছাড়া ভিক্ষারত অবস্থায় কেউ ভিক্ষুক ধরে দিতে পারলে তাকেও ৫০ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা করেছেন তিনি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউ পোর্টাল সুবর্ণভূমিকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানিয়েছেন ইউএনও।
এসব ব্যাপারে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি ০১৭৩৩-০৭৪০৩৯ নম্বরে রিং করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৯ আগস্ট) মণিরামপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিয়েছেন আহসান উল্লাহ শরিফী। এরআগে তিনি মাগুরা জেলার শ্রীপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ইউএনও হিসেবে মণিরামপুর তার দ্বিতীয় কর্মস্থল।
এদিকে মণিরামপুরে যোগদানের পরেই শহরের দুইটি সরকারি হাইস্কুল পরিদর্শনে যান ইউএনও। প্রতিষ্ঠান দুটিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের অনুপস্থিতি তার চোখে পড়ে। এছাড়া মণিরামপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে তিনি শ্রেণিকক্ষে ‘চক-ডাস্টার’ খুঁজে পাননি। এই প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে কঠোর ভূমিকা নিয়েছেন তিনি। কোনো শিক্ষার্থী যৌক্তিক কারণ ছাড়া তিন দিন একটানা শ্রেণিকক্ষে অনুপস্থিত থাকলে তাকে ছাড়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব শিক্ষার্থীদের উপজেলার অন্যকোনো স্কুলে ভর্তি করাতে হলে সেই প্রতিষ্ঠান থেকে বিষয়টি ইউএনও-কে জানাতে হবে।
ইউএনও আহসান উল্লাহ শরিফী বলেন, ‘প্রশাসন চাইলে বাল্যবিয়ে ও মাদক নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে। আমি এই ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর। ফলে বাল্যবিয়ে ও মাদকের সংবাদদাতাকে উৎসাহিত করতে আমার পক্ষ থেকে তার জন্য ৫০ টাকা মোবাইলে লোড দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছি। খবরের সত্যতা পাওয়ামাত্রই তার নম্বরে নির্ধারিত অ্যামাউন্ট ঢুকে যাবে। আর মণিরামপুরে ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনে বেশ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জেনেছি। তারপরও অনেকে ভিক্ষা করেন। এসব ভিক্ষুকদের ধরে জেলে দেওয়া হবে। কেউ ভিক্ষুক ধরে দিতে পারলে তাকে ৫০ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘মণিরামপুরে যোগদানের পরপরই সরকারি বালক ও সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে গিয়েছি। সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে ৬০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র দশজনকে উপস্থিত পেয়েছি। এসময় প্রতিষ্ঠানটির কোনো শ্রেণিকক্ষে চক-ডাস্টার পাইনি। সরকারি বালিকা বিদ্যালয়েও অনেক শিক্ষার্থীকে অনুপস্থিত পাওয়া গেছে। অনুপস্থিত শিক্ষার্থীরা কেনো ওই দিন স্কুলে আসেনি, সেই ব্যাপারে অভিভাবকদের কাছ থেকে লিখিত নেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীরা কারণ দর্শানোর নোটিস পেয়ে গেছে।’
‘একটানা যদি কোনো শিক্ষার্থী যৌক্তিক কারণ ছাড়া স্কুলে অনুপস্থিত থাকে তাহলে তাকে স্কুল থেকে ছাড়পত্র দিয়ে দেওয়া হবে। এসব শিক্ষার্থীদের উপজেলার অন্য স্কুলে ভর্তি নেওয়ার ব্যাপারে ইউএনও-কে জানাতে হবে,’ যোগ করেন ইউএনও।
দ্রুত উপজেলার অন্যান্য স্কুলের প্রধানদের ডেকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান আহসান উল্লাহ শরিফী।

আরও পড়ুন