সুন্দলীর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

আপডেট: 02:35:39 24/09/2017



img

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের অভয়নগর উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিকাশ রায় কপিলের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এবিষয়ে ইউনিয়নের বাসিন্দারা সম্প্রতি জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের এডিপি কর্মসূচির আওতায় সুন্দলী ইউনিয়নে দুই লাখ টাকার একটি প্রকল্পের কাজ হাতে নেন চেয়ারম্যান বিকাশ রায় কপিল। এই কাজের পিআইসি ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য মিনতি বিশ্বাসকে ভুল বুঝিয়ে তার স্বাক্ষর নিয়ে দুর্নীতি, অনিয়ম করে অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।
ওই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত কয়েকটি স্কুলে বেঞ্চ বরাদ্দের অর্থ প্রতিষ্ঠানকে না দিয়ে তিনি নিজের মতো বেঞ্চ তৈরি করে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিম্নমানের কাঠ ব্যবহার করে মোট ৩০ পিস বেঞ্চ তৈরি করেছেন। ৩০টি হাই-লো বেঞ্চ খরচ দেখিয়েছেন সাড়ে ৮২ হাজার টাকা। প্রকৃতপক্ষে ৩০টি বেঞ্চ তৈরি করতে তার খরচ হয়েছে মাত্র ৪০ হাজার টাকা। এছাড়া পাঁচটি টেবিলের দাম দেখানো হয়েছে সাড়ে ১৭ হাজার টাকা। আসলে সেখানে খরচ হয়েছে নয় হাজার টাকার মতো। ৫০টি ক্রিকেট সেটের দাম ভাউচারে দেখানো হয়েছে ৭৫ হাজার টাকা। এক সেটে দুটি ব্যাট, দুটি বল, ছয়টি স্ট্যাম্প কেনা হয়েছে বলে ভাইচারে দেখানো হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে একটি ব্যাট, একটি বল ও তিনটি স্ট্যাম্প বিতরণ করেই প্রাপ্তি স্বীকারপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছেন চেয়ারম্যান।
অভিযোগে বলা হয়, ইউনিয়নের সুন্দলী এসটি স্কুল অ্যান্ড কলেজে দুই সেট, আড়পাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দুই সেট, আড়পাড়া শহীদ স্মৃতি সংঘে দুই সেট, ভাটবিলা সবুজ সংঘে চার সেট, ফুলেরগাতি জ্যোতি ক্লাবে দুই সেট, ডহর মশিয়াহাটী নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দুই সেট, মশিয়াহাটী উচ্চ বিদ্যালয়ে দুই সেট, রাজাপুর বিবেকানন্দ ক্লাবে চার সেট মিলিয়ে মোট ২২ সেট ক্রিকেট সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু ভাউচারে বিতরণ দেখানো হয়েছে ৫০ সেট। অপরদিকে ঠিকাদার কর্তৃক প্রদানকৃত ২৬ সেট রিং স্ল্যাব এ প্রকল্পে দেখিয়ে পুরো টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
অভিযোগ দাখিলকারীদের মধ্যে কৃষ্ণ মণ্ডল, বলাই মণ্ডল, উৎপল বিশ্বাস, শিশির মজুমদার, কুদ্দুস মোল্যা, ব্রজেন বিশ্বাস জানান, সুন্দলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিকাশ রায় কপিল বিভিন্নভাবে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা করে আসছেন। চেয়ারম্যানকে অনেক বার তাগাদা দেওয়া হলেও তিনি সুপথে আসেননি। তাই এলাকাবাসী মিলে জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দাখিল করেছেন; যাতে বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মেম্বার বলেন, ‘চেয়ারম্যান বিকাশ রায় কপিলের সাথে বেশিরভাগ মেম্বরের সম্পর্ক ভালো না। তিনি একাই সব প্রকল্পের কাজ নিতে চান। যার জন্য আমাদের সাথে সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে।’
এডিপি কর্মসূচির আওতায় এই কাজের পিআইসি ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার মিনতি বিশ্বাস বলেন, ‘চেয়ারম্যান আমাকে না জানিয়ে এডিপির দুই লাখ টাকার কাজ হাতে নেন এবং এই কাজের পিআইসি বানিয়ে আমাকে ভুল বুঝিয়ে স্বাক্ষর করে টাকা উঠিয়ে নেন। আমি এই বিষয়গুলো ভালো বুঝি না। চেয়ারম্যান বিকাশ রায় কপিল কৌশলে আমাকে ব্যবহার করে প্রকল্পের টাকা মেরে দিয়েছেন।’
এসব অভিযোগ সম্পর্কে চেয়ারম্যান বিকাশ রায় কপিল বলেন, ‘আমি কোনো দুর্নীতি অনিয়ম করিনি। ষড়যন্ত্র করে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি এই প্রকল্পের কাজ ঠিক মতো করেছি।’

আরও পড়ুন