লোহাগড়ায় মিস্ত্রিকে নৃশংসভাবে হত্যা, গুলিবিদ্ধ ৫

আপডেট: 06:37:45 21/04/2018



img
img

লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি : আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার পারমল্লিকপুর গ্রামে উপর্যুপরি কুপিয়ে ও পিটিয়ে এক টিউবওয়েল মিস্ত্রিকে খুন করেছে প্রতিপক্ষ।
নিহত ব্যক্তির নাম খায়ের মৃধা। তিনি পারমল্লিকপুর গ্রামের মৃত মোহাজ্জেল মৃধার ছেলে। হত্যার পর উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার জন্য পুলিশ শটগানের ৩০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এ সময় পুলিশের গুলিতে পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পারমল্লিকপুর গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইউপি সদস্য উজ্জ্বল ঠাকুর সমর্থিত লোকজনদের সঙ্গে একই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য হিমায়েত হোসেন হিমু সমর্থিত লোকজনদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে শনিবার সকালে পার মল্লিকপুর চৌরাস্তার ভ্যানস্ট্যান্ডে উজ্জ্বল ঠাকুর সমর্থিত লোকজন প্রতিপক্ষের গোলাম কিবরিয়া লিটু ও আকরাম সরদারকে মারপিট করে।
এ খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে হেমায়েত হোসেন হিমু সমর্থিত লোকজন টিউবয়েল মিস্ত্রি আবুল খায়ের মৃধাকে (৪০) পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে। এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেওয়ার পথে হবি মৃধার দোকানের কাছে ফের প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে উপর্যুপরি কুপিয়ে দুই পায়ের রগ কেটে দেয়। এ সময় উভয় পক্ষের সংঘর্ষে আকরাম সরদার, গোলাম কিবরিয়া লিটু, রফিকুল শেখ, আবদুল রইচ কাজী, মনিরুল গাজী আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শটগানের ৩০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে।
এদিকে, গুরুতর আহত খায়ের মৃধাকে ঢাকা নেওয়া হচ্ছিল। পথে তার অবস্থার অবনতি হলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি মারা যান।
দুপুর ১২টার দিকে গ্রামে খায়ের মৃধার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে উজ্জ্বল ঠাকুর সমর্থিত লোকজন প্রতিপক্ষ হাফিজ শেখ, এরশাদ শেখের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট শুরু করে। খবর পেয়ে পুলিশ ভাংচুর ও লুটপাট ঠেকাতে আরো পাঁচ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এ সময় আনিচ ঠাকুর, সবুজ মিনা, নেওয়ান সরদার, রিয়াজুল ঠাকুর ও পাশের ঝিকড়া গ্রামের কলেজছাত্র সজীব শেখ গুলিবিদ্ধ হন। তাদের নড়াইল, যশোর, খুলনার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গুলিবিদ্ধ আনিচ ঠাকুর বলেন, ‘পুলিশ অন্যায়ভাবে আমাদের ওপর গুলি চালিয়ে আহত করেছে।’
তবে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম গ্রামবাসীদের ওপর গুলিবর্ষণের কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘উত্তেজিত জনতাকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য পুলিশ শটগানের ৩০ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করেছে।’
নড়াইলের সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান সাংবাদিকদের জানান, গ্রামবাসীদের ওপর পুলিশ গুলি করেছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হবে। বর্তমানে ওই গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঘটনার ব্যাপারে থানায় মামলা হয়নি।

আরও পড়ুন