বিসর্জনে সীমান্তনদী ইছামতিতে হাজারো মানুষ

আপডেট: 08:23:44 19/10/2018



img
img

জি এম আব্বাসউদ্দীন, দেবহাটা (সাতক্ষীরা) : বাঙালি হিন্দু ধর্মের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার শুক্রবার ছিল বিসর্জনের দিন। এদিন দেবহাটার ইছামতি নদীতে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হলো প্রতিমা বিসর্জন।
এবছর সীমান্তনদী ইছামতিতে নৌকা চললেও তা ছিল স্ব-স্ব সীমারেখার মধ্যে। বাংলাদেশ ও ভারতের কোনো নৌকা নিজেদের সীমারেখা অতিক্রম করতে পারেনি। আর এজন্য ছিল বিজিবি ও বিএসএফের কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী। তবে নিরাপত্তা বাড়াবাড়ির কারণে উৎসবে ভাটার টান লক্ষ্য করা গেছে।
বিসর্জন উপলক্ষে আজ দুপুর থেকে ইছামতি নদীর দুইপারে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হন। তবে স্ব-স্ব জলসীমা অতিক্রম না করার কঠোর নির্দেশনা থাকায় মন খারাপ ছিল জড়ো হওয়া দুই বাংলার মানুষের।
এবারের এ প্রতিমা বিসর্জনের মিলনমেলায় এপারে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল, পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাফিজ আল আসাদ, এএসপি শেখ ইয়াছিন আলী, দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আব্দুল মান্নান প্রমুখ।
স্থানীয়রা জানান, দেশ বিভাগের অনেক আগে থেকেই ইছামতির বিজয়া দশমীতে উভয় পারের মানুষেরা আয়োজন করেন মিলনমেলার। দেশ বিভাগের পরেও বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি ইছামতি নদীর এই জলসীমারেখা। বিভিন্ন সময়ে নানা প্রতিকূলতা সত্তে¡ও বন্ধ হয়নি মিলনমেলা। প্রতিবছর শুধুমাত্র উভয় পারের মানুষ নয়, বরং বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন মানুষ এই এলাকায় হাজির হতেন শুধুমাত্র ভেদাভেদ ভুলে দিনটিতে আনন্দ উপভোগ করার মানসে। উভয় দেশের মানুষ আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে দেখা করে মনে প্রশান্তি নিয়ে ফিরে যেতেন আপন আপন ঠিকানায়। কিন্তু কঠোর নিরাপত্তার কারণে উৎসব-উচ্ছ্বাস কমছে দিনকে দিন।
গত কয়েক বছরের মতো এবারো এক দেশের মানুষ অন্য দেশের সীমানায় যেতে পারেননি। ইছামতি নদীর মাঝ বরাবর ছিল বিজিবি ও বিএসএফের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নজরদারি।

ছবি : আল ইমরান