রোহিঙ্গা নির্যাতনের তদন্ত শুরু আইসিসির

আপডেট: 03:14:03 19/09/2018



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কৌশূলীরা মিয়ানমারের মুসলিম রোহিঙ্গাদের হত্যা, যৌন নির্যাতন এবং জোরপূর্বক বিতাড়নের অভিযোগে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে।
মঙ্গলবার তারা এই তদন্ত শুরু করে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী যে অভিযান চালিয়েছে তার বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের প্রথম পদক্ষেপ এটা।
দেশটির সেনাবাহিনীর অভিযানের ফলে উত্তরের রাখাইন প্রদেশের প্রায় সাত লাখ মানুষ প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
এর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে বিচারকরা রায় দেন যদিও মিয়ানমার আইসিসির সদস্য দেশ না, তারপরেও ঘটনার এক অংশ যেহেতু বাংলাদেশে ঘটেছে, এবং বাংলাদেশ যেহেতু আইসিসির সদস্য সেহেতু আন্তর্জাতিক আদালত বিচারকার্য করতে পারবে।
আইসিসির কৌশূলী ফাতৌ বেনসৌদা এক বিবৃতিতে বলেছেন "আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি এই প্রক্রিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ শুরু করবো এবং পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ প্রাথমিক পরীক্ষা নিরীক্ষা শুরু করবো"।
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, প্রাথমিক তদন্ত পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক তদন্তে রূপ নিতে পারে আইসিসির মাধ্যমে।
এর নজির রয়েছে ২০০২ সালে যুদ্ধাপরাধ এবং মানবাধিকারের বিরুদ্ধে অপরাধের যে তদন্ত শুরু হয় সেটা এই তদন্তের পরে সেটা অভিযোগ গঠন করা যেতে পারে।
ফাতৌ বেনসৌদা বলেছেন, প্রাথমিক তদন্ত হতে পারে "দমনমূলক সেসব কাজের বিরুদ্ধে যার ফলে বাধ্যতামূলক স্থানান্তর, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা, ধ্বংসযজ্ঞ এবং লুটপাটের বিরুদ্ধে"।
তিনি বিবৃতিতে বলেছেন রোহিঙ্গাদের ওপর অন্য আরো কোনো ধরনের অপরাধ যেমন নিপীড়ন বা অমানবিক আচরণ করা হয়েছে কিনা সেটাও বিবেচনা করা হবে।

কীভাবে শুরু হলো আইসিসির হস্তক্ষেপ
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসি জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার থেকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানবতা-বিরোধী অপরাধের অভিযোগ তদন্ত করার কর্তৃত্ব আদালতের রয়েছে।
৭ সেপ্টেম্বরে নেদারল্যান্ডস-এর দ্য হেগ শহরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রি-ট্রায়াল চেম্বার তাদের এ রায় দিয়েছেন।
তিন সদস্যবিশিষ্ট প্রি-ট্রায়াল চেম্বারের তিনজন বিচারকের মধ্যে দুইজন একমত পোষণ করলেও একজন ভিন্নমত দেখিয়েছেন।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রধান কৌশূলী আদালতের কাছে জানতে চেয়েছিলেন যে, রোহিঙ্গাদের যেভাবে মিয়ানমার থেকে বিতাড়ন করা হয়েছে সেটির তদন্ত করার এখতিয়ার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রয়েছে কিনা।
সে প্রেক্ষাপটে আইসিসির প্রি-ট্রায়াল চেম্বার রায় দিয়েছে যে, মিয়ানমার আন্তর্জাতিক আদালতের সদস্য না হলেও রোহিঙ্গারা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের কারণে ঘটনার একটি অংশ বাংলাদেশে সংঘটিত হয়েছে।
ফলে আইসিসি মনে করেছে, রোম সনদ অনুযায়ী ঘটনার তদন্ত করার ক্ষমতা আদালতের রয়েছে।
এ রায়ের ফলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রধান কৌশূলি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের প্রাথমিক তদন্ত চালিয়ে যেতে পারবেন।
তবে আদালত জানিয়েছে, এ ধরনের তদন্ত একটি যৌক্তিক সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে।
সূত্র : বিবিসি

আরও পড়ুন