বিষমুক্ত চাষাবাদের সংগ্রামে ড. মনিরুজ্জামান

আপডেট: 01:36:51 11/11/2017



img

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : বিষমুক্ত চাষাবাদে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. খান মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান। তার পরামর্শে ইতিমধ্যে উপজেলার কয়েকশ’ কৃষক চাষাবাদ করছেন জৈব পদ্ধতিতে।
এমনই একজন কৃষক সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের ইদ্রিস আলী। আগে রাসায়নিক সার ব্যবহার করে চাষাবাদ করলেও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে তিনি এখন জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন। এতে সফলও হয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যে ‘গ্রিন চাষি’ খেতাব অর্জন করেছেন তিনি। তার উৎপাদিত সবজি বা ফসলাদির চাহিদা রয়েছে ওই এলাকায়।
আরেকজন কৃষক সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের দুদু মিয়া। তিনি কয়েক বিঘা জমিতে জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন। সেক্স ফেরোমন ট্রাপ ব্যবহার, কেঁচো কম্পোস্ট ব্যবহার করছেন জমিতে।
কৃষক দুদু মিয়া জানান, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. খান মুহাম্মদ মনিরুজ্জামানের পরামর্শে তিনি রাসায়নিক সার ব্যবহার বাদ দিয়ে জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন। এতে মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা হচ্ছে। আর উৎপাদিত সবজি মানবদেহের জন্যেও নিরাপদ।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. খান মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বাজার থেকে আমরা যেসব সবজিসহ যা কিছু কিনে খাই, তার প্রায় সবগুলোর মধ্যেই বিভিন্ন কৃত্রিম সার, রাসায়নিক মিশ্রিত থাকে। এর ক্ষতিকারক প্রভাব আমাদের সবার ওপর পড়ছে। কৃত্রিম সার, রাসায়নিক দ্রব্য, ফরমালিন ইত্যাদির যথেচ্ছ ব্যবহারে ক্যানসার, ডায়াবেটিস, লিভারের ক্ষতিসহ নানাবিধ রোগব্যাধির প্রকোপ মারাত্মক হারে বাড়ছে। তাই অর্গানিক খাবার ও শাক-সবজি আমাদের নিজেদের জন্য তো দরকারই, শিশুদের জন্য এর প্রয়োজন আরো বেশি।এ কারণেই সদর উপজেলাকে বিষমুক্ত চাষাবাদের মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি।’
‘সদর উপজেলায় ২৮০টি সিআইজি গ্রুপ ও ৩২০টি এসএফজি গ্রুপ তৈরি করা হয়েছে। এই কৃষক সংগঠনের মাধ্যমে কৃষকদের জৈব চাষে উঠান বৈঠক ও মাঠ দিবসের মাধ্যমে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘অর্গানিক খাবার ও শাক-সবজি হয়তো সামান্য ব্যয়বহুল। তবুও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে আমাদের রাসায়নিক সার ও কীটনাশক বর্জন করতে হবে।’