বিধ্বস্ত উড়োজাহাজে খুলনার আলিফ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

আপডেট: 09:31:40 12/03/2018



img
img

খুলনা অফিস : নেপালের কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলার যে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়েছে, সেটির যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন খুলনার বাসিন্দা আলিফুজ্জামান আলিফ (৩২)। দুর্ঘটনার পর তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তার ভাগ্যে ঠিক কী ঘটেছে- তা এখনো জানতে পারেননি পরিবারের সদস্যরা।
আলিফুজ্জামান আলিফ খুলনার রূপসা উপজেলার আইচগাতি বারোপোল গ্রামের মো. আক্তারুজ্জামানের ছেলে। তিনি খুলনার এমএম সিটি কলেজ থেকে এবার মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড খুলনা জেলা শাখার তথ্য ও প্রচার সম্পাদক।
আলিফের নিকটাত্মীয় মো. সাব্বির খান দীপ সোমবার রাতে জানান, আলিফ নেপাল ভ্রমণের জন্য সোমবার সকালে বাড়ি থেকে বের হন। যশোর থেকে নভো এয়ারের ওই দিনের সকালের ফ্লাইটে ঢাকা যান। দুপুর পৌনে একটার দিকে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজে (ফ্লাইট বিএস ২১১) ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হন নেপালের উদ্দেশে। তিনি উড়োজাহাজটির শেষ আসনে ছিলেন। নেপালের সময় বেলা দুইটা ২০ মিনিটে কাঠমান্ডুতে নামার আগমুহূর্তে পাইলট নিয়ন্ত্রণ হারালে উড়োজাহাজটি রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়।
দীপ জানান, ঘটনার পর থেকে আলিফের সঙ্গে তারা কোনো যোগাযোগ করতে পারেননি। দুর্ঘটনায় তার ভাগ্যে ঠিক কী ঘটেছে- সেটিও তার পরিবারের সদস্যরা ধারণা করতে পারছেন না।
এদিকে, এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে আলিফদের আইচগাতির বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশীসহ উৎসুক জনতার ভিড় জমে গেছে। তার বাড়িতে এসে আলিফের খবর জানার চেষ্টা করছেন সবাই। পরিবারটির সদস্যরা আলিফকে নিয়ে ভীষণ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত।
আলিফের বড় ভাই আশিকুজ্জামান হামিম ও ছোট ভাই ইয়াসিন আরাফাত জানান, তারা তাদের ভাইয়ের সঠিক কোনো তথ্য এখনো পাননি। যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। এর বেশি কিছু বলতে পারেননি তারা।
আলিফের অপর আত্মীয় স্থানীয় আইচগাতি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী খান জুলু জানান, তিনি খবর পেয়ে আলিফদের বাড়িতে গিয়েছিলেন। পরিবারটির সদস্যদের সান্ত¦না দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি।
আইচগাতী এলাকার বাসিন্দা আবু হোসেন বাবু জানান, আলিফ সোমবার সকালে উড়োজাহাজে ওঠার আগে সেলফি তুলে ফেসবুকে আপলোড করেছিলেন।

আরও পড়ুন