জীবননগরে পাঁচঘণ্টা ধরে ‘গণডাকাতি’

আপডেট: 08:25:50 16/01/2018



img

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে মহাসড়কে গণডাকাতি হয়েছে। প্রায় পাঁচঘণ্টাব্যাপী ডাকাতরা পথচারীদের জিম্মি করে দুটি মোটরসাইকেল, ১৩টি মোবাইল ফোন ও নগদ প্রায় এক লাখ টাকা লুট করে নিয়েছে।
আক্রান্ত ব্যক্তিরা জানান, সোমবার রাত নয়টার দিকে জীবননগরের চিংড়িখালী ব্রিজের কাছে ২০-২২ জনের একদল সশস্ত্র ডাকাত রাস্তায় গাছ ফেলে পথচারীদের টাকা ও মালামাল লুট করে।
এ ব্যাপারে সীমান্ত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পরস্পরবিরোধী কথা বলেছেন।
ওসি এনামুল হক বলেন, ‘কোনো ডাকাতি হয়নি’। তবে, এ ব্যাপারে একজন থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন উল্লেখ করে ওসি জানান, ঘটনা তদন্ত করে দেখা হবে।
চেয়ারম্যান বলেছেন, ‘এলাকাবাসী ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করেছেন।’
ডাকাতির কবলে পড়া জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের মেদেনীপুর গ্রামের রউফ বিশ্বাসের ছেলে ইসরাইল বিশ্বাস (৪০) জানান, রাত নয়টার দিকে তিনি জীবননগর বাজার থেকে কাজ সেরে মেদেনীপুর যাচ্ছিলেন। সীমান্ত ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামের চিংড়িখালী ব্রিজের কাছে পৌঁছুলে ২০-২২ জন মুখোশধারী ডাকাত রাস্তায় গাছ ফেলে পথ আটকে রেখেছিল। ডাকাতরা তার ১২৫ সিসি লাল-কালো রঙের বাজাজ ডিসকভার মোটরসাইকেল, দুটি দামি মোবাইল ফোন ও নগদ ৩০ হাজার টাকা লুট করে।
এ ব্যাপারে তিনি মঙ্গলবার জীবননগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। যার নম্বর ৬৮২।
জীবননগর শহরের ইসলামপুরের ফুল ব্যবসায়ী বাদশা জানান, তিনি ও তার এক সঙ্গী জমির চাষাবাদ দেখে বাড়ি ফেরার সময় একইস্থানে ডাকাতদের কবলে পড়েন। ডাকাতরা তাদের কাছ থেকে টিভিএস মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেয়। এটি মঙ্গলবার সদর উপজেলার তিতুদহ গ্রামের গহেরপুর গ্রামের মাঠ থেকে এলাকাবাসী উদ্ধার করেছেন বলে জানান বাদশা।
এছাড়া হরিহরনগর গ্রামে যাওয়ার পথে মিজানসহ, আনারসহ আরো চারজনের কাছ থেকে চারটি মোবাইল ফোন ও সাড়ে ১৪ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় ডাকাতরা।
আক্রান্ত ব্যক্তিরা জানান, ওই রাতে ডাকাতরা সেখানে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা তাণ্ডব চালায়। এসময় অনেক পথচারী ডাকাতের কবলে পড়ে স্বর্বস্ব খুইয়েছেন বলে ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি।
ব্যাপারে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। একজন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে; সেটাও তদন্ত করে দেখা হবে।’
সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ময়েন উদ্দীনের উদ্ধৃতি দিয়ে ওসি আরো বলেন, ‘এই ইউনিয়ন এলাকায় কোনো দিনই এ ধরনের ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি। ঘটনাটি রহস্যজনক।’
ইউপি চেয়ারম্যান ময়েন উদ্দীন জানান, তিনি চিকিৎসার জন্য ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। ঘটনা শুনে তিনি তার গ্রামের লোকজনকে ঘটনাস্থলে পাঠান। তারা সেখান থেকে ডাকাতির শিকার ছয়জনকে গামছা ও দঁড়ি দিয়ে মুখ-হাত বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করেছেন।

আরও পড়ুন