কলারোয়ায় মাঠজুড়ে সোনালি ধানের শীষ

আপডেট: 08:01:06 05/11/2018



img

কে এম আনিছুর রহমান, কলারোয়া (সাতক্ষীরা) : কলারোয়ার বিভিন্ন মাঠে এখন আমন ধানের সোনালি শীষ দোল খাচ্ছে।
পোকামাকড় ও বিভিন্ন ধরনের রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ ছাড়াই বেড়ে ওঠা সোনালি ধানের শীষে ভরে গেছে মাঠ। দিগন্তজোড়া সোনালি ফসলের মাঠ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরো বিকশিত করে তুলেছে। তবে ভালো ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও স্বস্তিতে নেই কৃষক। সেচ, কীটনাশক, শ্রম খরচ মিটিয়ে লাভের মুখ দেখতে পারবেন কি-না তা নিয়ে কৃষকের মাঝে রয়েছে শঙ্কা।
উপজেলা কৃষি বিভাগের হিসেব মতে, চলতি বছরে কলারোয়া উপজেলায় ১১ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে; যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি।
এ বছর বৃষ্টি একটু কম হলেও ক্ষেতে পোকামাকড় এবং রোগ-বালাই নেই বললেই চলে। যে কারণে কৃষি বিভাগ আমনের বাম্পার ফলনের আশা করছে।
কৃষকরা বলছেন, এর মধ্যে যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটে তাহলে এবার আমন আবাদ ভালোই হবে। তবে ধানের দাম নিয়ে তাদের শঙ্কাও রয়েছে।
কৃষকরা আরো বলছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে গত বোরো আবাদ ঠিকমতো ঘরে তুলতে পারেননি তারা। তাই সিংহভাগ কৃষক ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে আমন ধান চাষাবাদ করেছেন। তাছাড়া এ বছর আমন মৌসুমে বৃষ্টি না হওয়ায় সেচ দিয়ে ক্ষেত রক্ষা করতে হয়েছে। এর জন্য বাড়তি শ্রম খরচও গুনতে হয়েছে। যে কারণে তাদের আগামীর স্বপ্ন এখন আমন ধানের ওপর।
ইতিমধ্যে কিছু এলাকার সামান্য জমিতে ধান কাটা শুরু হয়েছে। এসব ধান আগাম জাতের হওয়ায় কৃষক আগেই ঘরে তুলছেন। তবে কয়েকদিন পরেই পুরোদমে ধানকাটা শুরু হবে।
উপজেলার ওফাপুর মাঠের কৃষক মফিজুল ইসলাম জানান, আমন ধান গতবারের চেয়ে এবার ভালো হয়েছে। আর কয়েকদিন পর ধান কাটা শুরু করা যাবে। যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসে তবে এবার আমন ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে তিনি আশা করেন।
কামারালী গ্রামের দেশের বিলের কৃষক আব্দুল মাজেদ বলেন, ‘গত বোরো মৌসুমে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে আমরা চরম লোকসান করেছি। তাই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমন আবাদ করেছি। তবে বাড়তি সেচ, শ্রম খরচ ও কীটনাশক প্রয়োগে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। এ অবস্থায় সামনে ধান বাজারে ওঠার উপযুক্ত সময়ে যদি সঠিক দাম না পাই, তাহলে আমরা সামনে আমন আবাদ করবো কি-না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
কাকডাঙ্গা বিলে কথা হয় কৃষক মজিবর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ক্ষেতের ফসল আপাতত ভালো দেখা যাচ্ছে। তবে আকাশের গুমোট ভাব দেখে হৃদয় কেঁপে উঠছে। আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করছি যেন ঝড়-বৃষ্টি না দেয়। ঝড়-বৃষ্টি না হলে সুষ্ঠুভাবে ফসল ঘরে তুলতে পারলে আশা করছি লাভের মুখ দেখতে পাবো।’
উপজেলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মহসিন আলী বলেন, ‘আমন ধানের বাম্পার ফলন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে আমরা মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের কাজ করে আসছি। তাই আশা করি, বিগত মৌসুমের মতো এবারো আমন ধানের বাম্পার ফলন হবে। এতে কৃষকরা অনেকটা লাভবান হবে।’
‘ইতিমধ্যে উপজেলার কিছু জমির ধান কাটা শুরু হয়েছে। আশা করছি, আর কয়েকদিনের মধ্যে কৃষক কোনো ঝুটঝামেলা ছাড়াই ক্ষেতের ধান ঘরে তুলতে পারবেন,’ বলেন কৃষিবিদ মহসিন।