বেনাপোলে দ্বিতীয় দিনের মতো অচল বাণিজ্য

আপডেট: 10:47:09 16/07/2018



img
img
img

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপোল স্থলবন্দরে আমদানি করা পণ্য মাপার ওয়েভিং স্কেলে বিজিবির দায়িত্ব পালনকে কেন্দ্র করে রোববার দুপুর থেকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানিসহ খালাস প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়েছেন বন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীরা।
আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকায় দুই দেশের বন্দর এলাকায় আটকা পড়েছে পণ্যবোঝাই শত শত ট্রাক। আমদানি করা পণ্যচালানে কাস্টমস ও বন্দরের কার্যক্রমের বাইরে বিজিবির হস্তক্ষেপের ফলে বেনাপোলের সামগ্রিক বাণিজ্য ও রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
সোমবার বিকেলে বেনাপোল চেকপোস্ট ও রফতানি টারমিনালে সরেজমিনে দেখা যায়, দুই দেশের বন্দর এলাকায় আমদানিকৃত পণ্যবোঝাই শত শত ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মহসিন মিলন জানান, উচ্চ আদালতের রায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এসআরও এবং বিভিন্ন সময়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক নির্দেশনা বিজিবি কর্তৃপক্ষ উপেক্ষা করে বন্দর এবং কাস্টমস ওয়েং স্কেলে বসে আমদানি পণ্যচালানের ওজন পরিমাপ করা শুরু করেছে। শনিবার থেকে বিজিবি সদস্যরা বন্দরের ওয়েভিং স্কেল এবং কাস্টমস ওয়েভিং স্কেলে বসে আমদানি করা পণ্যচালানের মালামাল ওজন করছেন। বিজিবি বন্দর এলাকায় আমদানি-রফতানি সংক্রান্ত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করায় আমদানি-রফতানি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আর আমদানি-রফতানি ব্যাহত হলে রাজস্ব আদায়ে ধস নামবে। এরই প্রতিবাদে রোববার দুপুর থেকে বেনাপোলের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টগুলো আমদানি-রফতানি বন্ধ রাখে। সোমবার সকাল থেকে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বন্ধ, আমদানি পণ্য খালাসের বিল অব এট্রি দাখিল না করা ও বন্দর থেকে পণ্য খালাস না করায় বেনাপোল বন্দর এলাকা স্থবির হয়ে পড়েছে।
বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা হারুনর রশিদ বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় কার্গো শাখা অফিস, বন্দর ও কাস্টম ওয়েভিং স্কেলের সামনে বিজিবি চেয়ার বসিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে নজরদারি শুরু করে। বন্দর এলাকায় তাদের টহল দিতেও দেখা যায়।
পেট্রাপোল বন্দর ক্লিয়ারিং এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, হঠাৎ করে আমদানি-রফতানি বন্ধ হওয়ায় তারা বেকায়দায় পড়েছেন। বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় পেট্রাপোল বন্দরে পণ্যবাহী পাঁচ শতাধিক ট্রাক আটকা পড়েছে। পচনশীল পণ্য নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। সন্তোষজনক সমাধানের মাধ্যমে দ্রæত বাণিজ্য সচল হবে বলে তারা আশা করছেন।
এদিকে, বিজিবি বলছে, জাতীয় চোরাচালান প্রতিরোধ কমিটির ৬০তম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে শুল্ক, বন্দর ও চেকপোস্টসমূহে মালামাল ওজন করার সময় বিজিবির প্রতিনিধি উপস্থিত রাখা হয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কাস্টমস আইনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কার্যক্রম সম্পাদনে আইন, প্রজ্ঞাপন ও বিধিবিধান উপেক্ষা করে কাস্টমস ও বন্দরের কার্যক্রমে বিজিবির হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনায় বলা হয়েছে (পত্র নথি নং-০৮.০১.০০০০.০৬৩.০১.০০৬.১৫/৭৬, তারিখ : ০২/০৮/২০১৫) বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে আমদানিকৃত নয় এমন পণ্য পরিবহন তথা চোরাচালান রোধকল্পে বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে টাস্কফোর্সের আওতায় নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করার বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। অর্থাৎ উক্ত পত্রে বিল অব এন্ট্রির পণ্য টাস্কফোর্সের আওতাবহির্ভূত রাখা হয়েছে।
যশোর ৪৯ বিজিবির কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল আরিফুল হক বলছেন, জাতীয় চোরাচালান প্রতিরোধ কমিটির ৬০তম সভায় দেশের সব বন্দরে পণ্য পরিমাপের স্কেলে কাস্টমস সদ্যস্যদের সঙ্গে বিজিবি সদস্যদের যৌথভাবে কাজের সিদ্ধান্ত হয়। ওই আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, রাজস্ব বোর্ড, কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভাগীয় কমিশনাররা ছিলেন। তারা সবাই সম্মতি দিয়েছেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে বিজিবি সদস্যরা বন্দরে কাজ করছেন।
এ ব্যাপারে বেনাপোল কাস্টম হাউজের কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী জানান, কাস্টমসের কাজ কাস্টমস করবে। সে ক্ষেত্রে বিজিবি বন্দরে আমদানি পণ্যের ওজনের ব্যাপারে নজরদারি করতে পারে না। তাছাড়া আমদানি-রফতানি পণ্যের ক্ষেত্রে বন্দর এলাকায় বিজিবির নজরদারির এখতিয়ার নেই। বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা আমদানি-রফতানিসহ খালাস প্রক্রিয়া বন্ধ রেখেছেন।
‘বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করছি। সিদ্ধান্ত এলে ব্যবসায়ীদের সাথে বসে বিষয়টি সুরাহা করা হবে।’

আরও পড়ুন