নির্বাচন কমিশনের অর্জন খুলনায় ধূলিস্যাৎ

আপডেট: 08:33:15 22/05/2018



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : দেড় বছর আগে দায়িত্ব নেওয়ার পর একাদশ সংসদ নির্বাচনের পথে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন করে যে প্রশংসা নির্বাচন কমিশন কুড়িয়েছিল, তা খুলনায় ধূলিস্যাৎ হয়েছে বলে মনে করে নাগরিক সংগঠন সুজন।
সদ্য অনুষ্ঠিত খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন পর্যবেক্ষণের পর মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিক্রিয়া জানায় সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।
গত ১৫ মে অনুষ্ঠিত খুলনা সিটি নির্বাচন চমৎকার ও উৎসবমুখর পরিবেশে হয় বলে ইসির দাবি। তবে ভোট পর্যবেক্ষকদের একটি মোর্চা ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ বলছে, বেশি মাত্রায় না হলেও অনিয়ম কিছু হয়েছে।
ভোটে বিজয়ী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনকে সুষ্ঠু বলছে। অন্যদিকে বিএনপি বলছে, সেখানে ভোটের নামে প্রহসন হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সুজনের সমন্বয়কারী দিলীপকুমার সরকার বলেন, “খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন একটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন, যাকে সার্বিকভাবে সুষ্ঠু, সুন্দর ও ত্রুটিমুক্ত বলার কোনো অবকাশ নেই।
“রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন যে আস্থা অর্জন করেছিল, সাম্প্রতিককালে অন্যান্য কিছু স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তা বহুলাংশে ভূলুণ্ঠিত হয়েছে।”
এই বছরের শেষ ভাগে অনুষ্ঠেয় একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন কমিশনই দায়িত্বে থাকবে। খুলনায় ভোটের পর তাদের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপি।
সুজন মনে করে, জাতীয় নির্বাচনের আগে গাজীপুর, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট নির্বাচন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করতে পারলে ইসির উপর জনগণের আস্থা ফিরতে পারে।
“অন্যথায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতিগতভাবে আমরা নতুন সঙ্কটের মুখোমুখি হতে পারি; যা আমাদের একটি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত করতে পারে,” বলেন দিলীপ।
অনুষ্ঠানে সুজনের সভাপতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, “খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের যে তিনটি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত রয়েছে সেগুলো অনুষ্ঠিত করতে নির্বাচন কমিশনের তৎপরতা দেখা গেছে; কিন্তু এই নির্বাচনকে ঘিরে যেসব অভিযোগ আপত্তি উঠেছে, সেগুলো নিয়ে নির্বাচন কমিশন কোনো কর্ণপাত করছেন না।”
তিনি বলেন, “এই নির্বাচনে কমিশন সরকারের সব কথায় বেশি গুরুত্ব দিলেও বাকি দলগুলোর অভিযোগ ও দাবি-দাওয়াতে গুরুত্ব দেয়নি।”
কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, “এই নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন প্রথম বিভাগে পাস করতে পারেনি, তৃতীয় বিভাগে পাস করেছে। নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন যে সাহস দেখানোর দরকার ছিল তা তারা করতে পারেনি।
“সামনে আমাদের জাতীয় নির্বাচন, জাতীয় নির্বাচনে যে নির্বাচন কমিশন সাহস দেখাতে পারবে বা প্রথম শ্রেণিতে পাস করতে পারবে, তা জনগণ বিশ্বাস করে না, আমিও বিশ্বাস করি না।”
খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ব্যঙ্গ করে ‘মডেল’ নির্বাচন হিসেবে মন্তব্য করেন স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ।
তিনি বলেন, “এই সিটি নির্বাচন একটি মডেল। এখানে সবই ঠিক থাকবে, কিন্তু ভেতরে কাজ চলবে।”
খুলনার নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের চেয়ে পুলিশের খবরদারিই বেশি ছিল বলে অধ্যাপক তোফায়েলের পর্যবেক্ষণ।
খুলনা নির্বাচনে এক ধরনের ভীতি কাজ করেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “নির্বাচনে প্রার্থীর এজেন্ট হয় কয়েক ঘণ্টার জন্য, কিন্তু সেই প্রার্থী যদি হুমকি, ভয়-ভীতি পেয়ে থাকে, তাহলে তো সে তার সারা জীবনের নিরাপত্তাই আগে দেখবে। এই নির্বাচনে এমনটাই হয়েছে।”
সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “আমরা নির্বাচনের দিন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করি না, কিন্তু নির্বাচনের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে থাকি।
“এই নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে অনেকগুলো অভিযোগ এসেছে, এসব অভিযোগের চুলচেরা বিশ্লেষণ ও দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।”
সূত্র : বিডিনিউজ

আরও পড়ুন