ঝিনাইদহে ব্যস্ত হয়ে উঠছেন গাছিরা

আপডেট: 01:34:59 03/11/2017



img

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : প্রকৃতিতে শীতের আমেজ এসে গেছে। সকাল-সন্ধে নিয়ম করে কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে মেঠোপথ। আর এর মধ্যেই খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে গেছেন গাছিরা।
খেজুররসের জন্য বিখ্যাত বৃহত্তর যশোরের ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন গ্রামের গাছিরা এখন খেজুরগাছ কাটতে (রস সংগ্রহের উপযোগী করতে) শুরু করেছেন। ঝিনাইদহের আসাননগর, বোড়াই ও রাঙ্গিয়ারপোতা, কালীগঞ্জের মহেশ্বরচাঁদা, কেয়াবাগান, কোলা, নিয়ামতপুরসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরলে এখন খেজুরগাছ ছাঁটার দৃশ্য চোখে পড়ে। আগাম গুড় ও পাটালি উঠলে লাভও বেশ ভালোই হয়। সেই আশাতেই হালকা শীতে গুড় তৈরিতে মনোযোগী গাছিরা।
সদর উপজেলার সাধুহাটি ইউনিয়নের আশাননগর গ্রামের কৃষক সামছুল হক জানান, তিনি অনেক বছর থেকেই খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ করছেন। এ রস থেকে তিনি গুড় ও পাটালি তৈরি করে কালীগঞ্জ ও ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করে থাকেন। গত বছর তিনি দশ কেজি ওজনের এক ঠিলে গুড় ৭০০ থেকে এক হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন।
একই গ্রামের গাছি সামেদ জানান, চলতি বছর তিনি ৫০টি খেজুরগাছ কেটেছেন। আশা করছেন, এক সপ্তাহ পর থেকে রস পাওয়া যাবে। গত বছর তিনি খেজুরের গুড় ও পাটালি বিক্রি করে প্রায় ৫৫ হাজার টাকা লাভ করেছেন। চলতি বছর আরো বেশি দামে গুড় বিক্রির আশা করছেন এই গাছি।
ঝিনাইদহে আনুমানিক তিন লাখ খেজুর গাছ রয়েছে। এর মধ্যে সদরের ১৭টি ইউনিয়নেই রয়েছে ৫০ হাজারের বেশি। সদরের কৃষকরা শীত মৌসুমে এসব গাছ থেকে প্রায় পাঁচ লাখ কেজি গুড় উৎপাদন করে থাকেন।
একই এলাকার গাছি আবদুর রহিম জানান, গত বছর দশ কেজি ওজনের এক কলস গুড় উৎপাদন করতে খরচ হয়েছিল ৪০০ টাকা। আর বিক্রি করেছেন ৭০০ টাকায়। তবে জ্বালানির দামসহ আনুষঙ্গিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় চলতি বছর খরচ আরো কিছু বেশি হতে পারে।
এরই মধ্যে অনেক কৃষক গুড় তৈরির সরঞ্জাম এমনকি জ্বালানিও সংগ্রহ করে ফেলেছেন।
আব্দুল মিয়া জানান, খেজুর রস থেকে গুড় তৈরির কাজ শুরু করতে প্রাথমিক সরঞ্জাম কলস ও জ্বালানি সংগ্রহ হয়ে গেছে।
সদর উপজেলার সাধুহাটি ইউনিয়নের আসাননগর, বোড়াই ও রাঙ্গিয়ারপোতা এবং আশপাশের কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই ব্যস্ত গাছিরা দা, ঠুঙি, দড়ি ও মাটির কলস (ভাড়) নিয়ে ছুটে চলেছেন নির্দিষ্ট গন্তব্যে। গাছিদের প্রক্রিয়াজাত করা খেজুরের গুড়, পাটালি বা রস দিয়েই কয়েকদিন পরেই মুখরোচক পিঠা, পুলি, পায়েস তৈরির ধুম পড়বে গ্রামের গৃহস্থ বাড়িতে। শুধু কি তাই? খেজুরের গুড় বা রস দিয়ে তৈরি মুড়ি, চিড়ার মোয়া লেপমুড়ি দেওয়া শীতের সকালে খাওয়ার মজা তো উপভোগ করেন আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা সবাই।
ঝিনাইদহের বন কর্মকর্তা জানান, বৃহত্তর যশোর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় ১১ বছর আগে ঝিনাইদহে প্রায় লক্ষাধিক সৌদি খেজুরগাছের চারা রোপণ করা হয়। ইদানীং কৃষক এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও ব্যক্তিগত উদ্যোগে খেজুরগাছের কিছু চারা রোপণ করেছেন।