মাদরাসার টাকা সভাপতির পকেটে

আপডেট: 07:31:26 07/11/2018



img

মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর দাখিল মাদরাসার দশ লাখ টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে না রেখে সভাপতির নিজ পকেটে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, মোটা অংকের এই টাকা দিয়ে কমিটির সদস্যরা ব্যবসা করছেন।
এলাকাবাসী জানান, ১৯৯৭ সালে মহেশপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী পলিয়ানপুর দাখিল মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৬ সাল পর্যন্ত ওই মাদরাসায় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পলিয়ানপুর গ্রামের ডাক্তার ইমারুল হক। তিনি সভাপতি থাকাকালীন প্রতি বছর মাদরাসা চত্বরে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হতো। মাহফিলে গড়ে প্রতি বছর এক লাখ টাকা আয় হতো। এ হিসেবে ইমারুলের কাছে বিভিন্ন খরচ বাদে অন্তত দশ লাখ টাকা জমা হয়। একপর্যায়ে ডা. ইমারুলের কাছ থেকে টাকা আদায় করে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা তা ব্যাংকে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তিনি নগদ টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় বর্তমান মাদরাসা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কবির শেখ দশ লাখ টাকা সমমূল্যের দুই বিঘা জমি নিজ নামে রেজিস্ট্রি করে নেন। এর পরিবর্তে কবির শেখের দশ লাখ টাকা মাদরাসার ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নতুন সভাপতি দুই বছরেও ব্যাংকে টাকা জমা দেননি।
অভিভাবকদের আশঙ্কা, ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা ওই টাকা আত্মসাতের পাঁয়তারা করছেন।
কাজীরবেড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি শহিদুজ্জামান তরফদার বলেন, ‘সাবেক সভাপতি মাদরাসার টাকার হিসেব না দিতে পারায় আমরা কয়েক গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গ্রামের মোড়ল-মাতব্বরদের নিয়ে বসে দশ লাখ টাকা ফেরত চাই। তিনি জমি বিক্রি করে আমাদের টাকা দেবেন বলে জানান। পরে বর্তমান সভাপতি রায়পুর মাঠের দুই বিঘা জমি দশ লাখ টাকা মাদরাসায় জমা দেবেন বলে প্রতিশ্রæতি দিয়ে নিজ নামে লিখে নেন। কিন্তু সে টাকা দুই বছরেও মাদরাসার ব্যাংক হিসাবে জমা করা হয়নি।’
মাদরাসার সাবেক সভাপতি ডাক্তার ইমারুল হক বলেন, ‘আমি সভাপতি থাকাবস্থায় কিছু টাকা আমার কাছে জমা ছিল। কিন্তু বর্তমান সভাপতি কবির ও ম্যানেজিং কমিটির অন্যরা অন্যায়ভাবে কোনো হিসেব না নিয়ে জোর করে দশ লাখ টাকা দাবি করেন। আমি অন্যায়ের কাছে মাথানত করতে বাধ্য হই। এক পর্যায়ে আমি কবির শেখের নামে দশ লাখ টাকা সমমূল্যের দুই বিঘা জমি রেজিস্ট্রি করে দিই। কিন্তু বর্তমান সভাপতি দুই বছরের মধ্যেও সেই টাকা মাদরাসার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করেনি।’
পলিয়ানপুর মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি কবির শেখ বলেন, ‘চার গ্রামের লোক এক হয়ে টাকা আদায়ের জন্য সাবেক সভাপতির কাছ থেকে দুই বিঘা জমি আমার নামে রেজিস্ট্রি করে দেয়। সে জমি সুপারের নেতৃত্বে লিজ দিয়ে মাদরাসায় টাকা নেওয়া হয়। মাদরাসার সুপার সেই জমি বিক্রি করার চেষ্টা করছে। ক্রেতা পাওয়া গেলেই জমি বিক্রি করে টাকা মাদরাসার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করা হবে।’
পলিয়ানপুর মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার হাবিবুর রহমান লিটন জানান, সাবেক সভাপতির কাছ থেকে নগদ দুই লাখ টাকা নেওয়া হয়। বাকি আট লাখ টাকার পরিবর্তে দুই বিঘা জমি বর্তমান সভাপতির নামে লিখে দেওয়া হয়।
আদায় করা টাকা দিয়ে কমিটির লোকজন ও তিনি নিজে ব্যবসা করছেন বলে অভিভাবকদের সন্দেহের বিষয়ে প্রশ্ন করলে সুপার বলেন, মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতারা এই জমি লিজ দিয়ে থাকেন। তারা কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য করেন না।

আরও পড়ুন