শৈলকুপায় শিমে সর্বনাশ

আপডেট: 06:45:32 05/11/2017



img
img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার শীতকালীন সবজি শিমের ক্ষেতে মড়ক দেখা দিয়েছে। রোগাক্রান্ত শিমগাছ থেকে ফুল পচে ঝরে পড়ছে। ফলে লাভজনক এ সবজি চাষ করে এবার শৈলকুপার কৃষকেরা পথে বসতে চলেছে।
এদিকে কৃষকদের অভিযোগ, কোনো খোঁজ নেয়নি স্থানীয় কৃষি অফিস। ফলে কৃষকরা জানতে পারছেন না, কী কারণে তাদের শিমগাছ থেকে ফুল ঝরে পড়ছে। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, বিরূপ আবহাওয়ার কারণে এবার শিম চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
শৈলকুপা উপজেলার কয়েক হাজার কৃষক এবার শীতকালীন সবজি শিমের আগাম চাষ করেছেন। শীতের শুরুতেই ভালো দামে সবজি বিক্রি করতে পারবেন বলে তাদের আশা ছিল। কিন্তু এবার কোনো শিম বাজারে নিতে পারেননি তারা।
শৈলকুপা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ৩৫০ হেক্টরের বেশি জমিতে ফুলে ফুলে শিমগাছ ভরে উঠলেও রোগাক্রান্ত হয়ে সব ফুলই ঝরে পড়ছে। পচন ও ছত্রাকজনিত বালাইয়ে ফুল শুকিয়ে ঝরে পড়ছে। আবার শিম ক্ষেতের গোড়াতেও দেখা দিয়েছে পচন রোগ। কোনো বালাইনাশক ব্যবহার করে উপকার পাচ্ছেন না কৃষকরা।
কৃষকরা বলছেন, এক বিঘা জমিতে শিম চাষ করতে দশ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। এসব খরচের মধ্যে রয়েছে জমি তৈরি, সার, কীটনাশক, বাঁশ, পাটখড়ি ও শ্রমিক খরচ। ভালো ফলন হলে বিঘা প্রতি লাখ টাকার শিম বিক্রি করা যায়।
শওকত মোল্লা, উজ্জ্বল হোসেন, ফিরোজ, মোস্ত মোল্লা, জেসমিনসহ এলাকার অনেক কিষাণ-কিষাণীর অভিযোগ, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে আসেন না । তারা কোনো খোঁজ রাখেন না। যে কারণে তারা ভালো কোনো নির্দেশনা পান না সবজি চাষে। যদিও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের কাজই হলো মাঠ পর্যায়ে ঘুরে চাষিদের পরামর্শ দেওয়া।
কৃষকদের অভিযোগ স্বীকার করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয়কুমার কুণ্ডু জানান, মাঝে মধ্যে তীব্র গরম, অতিবৃষ্টির কারণে শিমের ফুলে এবার পরাগায়ন হয়নি। ভালোভাবে শীত পড়তে শুরু করলে শিমের ফলন ভালো হবে। তখন কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবে কৃষকরা।
‘ইউনিয়নগুলোতে কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের তদারকি করতে বলা হয়েছে। কারো গাফিলতির অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে,’ যোগ করেন এই কৃষি কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন