নির্বাচন নিয়ে শঙ্কায় এরশাদ

আপডেট: 06:49:32 20/10/2018



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : আগামী নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
তিনি বলেন, ‘আমি দেশবাসীর উদ্দেশে কিছু বার্তা পৌঁছে দিতে চাই। নির্বাচন নিয়ে এখন অনেক সংশয় রয়েছে। নির্বাচন কখন হবে জানি না।’
‘একটি দল সাত দফা দিয়েছে (জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট)। সরকার তা মানতে রাজি নয়। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী মানা সম্ভব নয়। এ অবস্থার মধ্যে আগামী দিনগুলো স্বচ্ছ দিন বলে মনে হয় না আমার। নিবাচন হবে কি হবে না আমরা জানি না।’
শনিবার (২০ অক্টোবর) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটের মহাসমাবেশে এসব কথা বলেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হলে জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন এরশাদ। তিনি বলেন, ‘আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা চাই। নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।’
জাতীয় পার্টি নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন করতে চায় বলে উল্লেখ করে এরশাদ বলেন, ‘দেশের প্রত্যেকটি নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।’
‘আমি জোটের সবাইকে প্রার্থী তালিকা দিতে বলবো। তবে দলের চেয়ে প্রার্থীর যোগ্যতা বেশি হতে হবে।’

‘আমার চেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ নেই’
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ বলেন, ‘আমি সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ, আমার ওপরে আর কারো বয়স নেই। আমি ক্ষমতা ছেড়ে যাওয়ার পরে যত নির্যাতন ও অত্যাচার সহ্য করেছি, আর কোনো রাজনীতিবিদ তা সহ্য করেনি। আজ পর্যন্ত আমি শান্তিতে ও আনন্দে ঘুমাতে পারি না।’
তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচন হয়তো আমার শেষ নির্বাচন। আমার শেষ জীবনটাকে দেশ ও জাতীয় জন্য উৎসর্গ করলাম। দেশবাসীর কাছে আমার একটাই চাওয়া, দোয়া করবেন যেন জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় আসতে পারে।’

মঞ্চে রওশন এরশাদের গান
সমাবেশে জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ বলেন, ‘জনগণের উৎসাহ ও আগ্রহ দেখে মনে হচ্ছে আমরা আবার ক্ষমতায় যাই। আগামীতে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যা যা করা দরকার তাই করতে হবে।’
এসময় রওশন এরশাদ আরো বলেন, ‘জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় যেতেই হবে। কারণ জনগণ আরেকবার সুযোগ দিতে চায়। তাই আমরা যদি এই সুযোগ গ্রহণ করতে না পারি, তাহলে অন্য কোনো দল তা পারবে না। আর ক্ষমতায় যেতে হলে দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে হবে।’
বক্তব্যের এক পর্যায়ে রওশন এরশাদ দুটি গান গেয়ে শোনান। ‘আসল মানুষ না চিনে আমি করেছি মস্ত বড় ভুল, নাঙলে ভোট না দিয়ে করেছি মস্ত বড় ভুল’- রংপুরের এই গানটি তিনি গাইতে থাকেন। তার সঙ্গে উপস্থিত নেতাকর্মীরা ঠোঁট মেলান। এরপর তিনি ‘নতুন বাংলাদেশ গড়বো’ শিরোনামে আরেকটি গান করেন।

নেতাকর্মীদের চেয়ার ছোড়াছুড়ি
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ মঞ্চের সামনে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মধ্যে কয়েক দফায় চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে লক্ষ্য করে চেয়ার ছুড়ে মারে। এতে কয়েকজন নেতাকর্মী আঘাতও পান। এসময় শতাধিক চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। তখন মঞ্চ থেকে অনুরোধ করে শান্ত করা হয় কর্মীদের।
রংপুর থেকে সমাবেশে আসা জমিস উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের পার্টি। আর আমাদের বলে যে, কোথা থেকে আসছি। এজন্য ওদের চেয়ার ছুড়ে মেরেছি।’
এরপর এইচ এম এরশাদ বক্তব্য দেওয়ার সময় বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা ব্যানার ওপরে তুলে ধরেন। তখন এরশাদ বলেন, ‘ব্যানার ও পোস্টার নামাতে হবে। তোমার এগুলো নামাও।’
সম্মিলিত জাতীয় জোটের এই সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য সালমা ইসলাম, ফয়সল চিশতী, আবু হোসেন বাবলা, খেলাফত মজলিশের জোবায়ের আহমদ আনসারী, ইসলামিক ফ্রন্টের এমএ মান্নান, আবু সুফিয়ান, বিএনএ-এর সেকান্দর আলী প্রমুখ।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, জিয়াউদ্দিন বাবলু, কাজী ফিরোজ রশিদ, খেলাফত মজলিশের মাওলানা মাহফুজুল হকসহ জোটের শীর্ষ নেতারা।
এর আগে সারাদেশে দেশ থেকে জোটের নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন। মহাসমাবেশের কারণে শাহবাগ মোড় থেকে হাইকোর্টে মোড় পর্যন্ত দুই পাশের রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ থাকে। সমাবেশকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপিস্থিতি থাকার কারণে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হয়নি।
সূত্র : প্রথম আলো, বাংলা ট্রিবিউন