লোহাগড়ায় ভাতা থেকে টাকা কাটার অভিযোগ

আপডেট: 05:17:25 22/09/2018



img

লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি : লোহাগড়ায় অগ্রণী ব্যাংকের ক্যাশিয়ার ও জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ১০৮ জনের কাছ থেকে তাদের ভাতার টাকা থেকে জনপ্রতি এক হাজার টাকা করে কেটে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত শুক্রবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে অগ্রণী ব্যাংক লোহাগড়া বাজার শাখা থেকে টাকা নিয়ে যাওয়ার সময় ভুক্তভোগীরা সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন।
টাকা কেটে নেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন, অগ্রণী ব্যাংকের লোহাগড়া শাখার ক্যাশিয়ার শেখ জাহাঙ্গীর আলম, নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম কালু, ইউপি সদস্য মোহাম্মাদ মোল্যা, শিবানীরানি বিশ্বাস, মোস্তাক আহম্মদ নাইসসহ বেশ কয়েকজন। তারা ভাতাভোগীদের কাছ থেকে মোট এক লাখ আট হাজার টাকা কেটে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিন জানা গেছে, উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী মোট ১০৮ জনকে অগ্রণী ব্যাংক লোহাগড়া বাজার শাখা থেকে গত শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে টাকা বিতরণ করা হয়। অগ্রণী ব্যাংকের লোহাগড়া শাখা থেকে টাকা দেওয়া শুরু হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পরস্পরের যোগসাজশে ভাতাভোগীদের চেক বইয়ের পাতায় টিপসই নিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে এক হাজার করে টাকা কেটে নেন।
নাম প্রকাশ করা হবে না এই শর্তে ওই ইউনিয়নের একাধিক ভুক্তভোগী জানান, বয়স্ক ও বিধবাদের ছয় হাজার টাকার পরিবর্তে দেওয়া হয় পাঁচ হাজার টাকা এবং প্রতিবন্ধীদের আট হাজার ৪০০ টাকার স্থলে দেওয়া হয় সাত হাজার ৪০০ টাকা।
তবে টাকা কম দেওয়ার বিষয়টি নোয়াগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম কালু, ইউপি সদস্য মোহাম্মাদ মোল্যা ও ক্যাশিয়ার জাহাঙ্গীর আলম অস্বীকার করেন।
কিন্তু ভুক্তভোগীরা জানাচ্ছেন, টাকা কেটে নেওয়ার বিষয়টি ফাঁস হলে পরে তাদের নাম বাদ দেওয়া হবে বলে জনপ্রতিনিধিরা শাসিয়েছেন।
লোহাগড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শামীম রেজা বলেন, ‘ভাতাভোগীরা স্ব-স্ব ব্যাংক হিসাব থেকে চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করবেন। সমাজসেবা অফিসের নামে কেউ টাকা নিলে এবং এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অগ্রণী ব্যাংক লোহাগড়া বাজার শাখার ব্যবস্থাপক ইসমাইল হোসেন বলেন, ভাতাভোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধের দিনে ভাতার টাকা দেওয়া হচ্ছে। তবে কোনো ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে শনিবার লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুকুলকুমার মৈত্র বলেন, টাকা কেটে নেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন