ঝিনাইদহে সেই আওয়ামী নেতাকে ‘গণপিটুনি’

আপডেট: 07:47:42 18/11/2018



img

স্টাফ রিপোর্টার : কয়েক মাস আগেও বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের পা ভেঙে এলাকাছাড়া করা হুমকি দিয়েছিলেন। তার অশ্লীল ও অনুচ্চরণযোগ্য বক্তৃতার ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হয়েছিল। সেই ক্ষমতাধর আওয়ামী লীগ নেতা গণপিটুনি খেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
পিটুনি খাওয়া আওয়ামী লীগ নেতা ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম হিরণ। তিনি সদর উপজেলার আড়ুয়াকান্দি গ্রামের মৃত আবুল কালাম মুন্সির ছেলে।
শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে সদর উপজেলার মধুপুর চৌরাস্তার মোড়ে তাকে মারধর করা হয়। এ সময় তার সহযোগী চাপড়ি গ্রামের রিপন মেম্বর, বরইখালী গ্রামের আব্দুল হান্নান ও মধুপুর গ্রামের আজিজুল আহত হন। রাত একটার দিকে তিনি ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। তার চিকিৎসা রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৭১০৪/২।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের রাত্রিকালীন চিকিৎসক শাহিন খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শনিবার রাত একটার দিকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম হিরণ কয়েক সঙ্গীসহ হাসপাতালে এসে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে যান। হিরণ চেয়ারম্যানের ডান হাঁটু ও ডান হাতের হিপ জয়েন্টসহ বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদ বলেন, ‘আমি শুনেছি সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম হিরণকে মারধর করা হয়েছে। তবে কারা তাকে মেরেছে তা আমি নিশ্চিত হতে পারিনি।’
ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি এমদাদুল হক শেখের ভাষ্য, তারা নিজেরা নিজেরা নাকি অন্য কারো সাথে গণ্ডগোল হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। শহিদুল ইসলাম হিরণ সম্ভবত ভর্তি হননি।
সম্প্রতি সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম হিরণের জনসভায় দেওয়া অশ্লীল বক্তৃতার ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এ নিয়ে তিনি ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সমালোচনার মুখে পড়ে। হিরণ সদর উপজেলার সাধুহাটি, হলিধানী বাজার, হাটগোপালপুর, মধুপুর, গোয়ালপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্য জনসভায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ গ্রুপকে মারধর করে নিতম্বের চামড়া তোলার হুমকি দেন। এ সময় তিনি বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঠ্যাং ভেঙে পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করানোর হুমকিও দেন। পুলিশ তার এই নির্দেশ না মানলে তাদের ঝিনাইদহছাড়া করবেন বলে জানিয়ে দেন।

আরও পড়ুন