ভিক্ষুকে ভয় দেখিয়ে বক্তব্য রেকর্ড, বেনাপোলে আটক ৩

আপডেট: 02:17:24 16/09/2017



স্টাফ রিপোর্টার : রোহিঙ্গা সঙ্কটের প্রেক্ষাপটে যশোরের বেনাপোল সীমান্তে জ্ঞানমিত্র নামে একজন বৌদ্ধ ভিক্ষুকে ভয় দেখানো এবং তা ভিডিও ধারণ করার অভিযোগে এক ছাত্রসহ তিন যুবককে আটক করেছে পোর্ট থানা পুলিশ।
ভারত থেকে দেশে ফেরার পর গত মঙ্গলবার ওই যুবকরা ভিক্ষুকে ভয় দেখিয়ে তাদের চাওয়া মতো কথা বলতে বাধ্য করেন এবং তা ভিডিও করেন। পরদিনই তিনি প্রাণভয়ে ভারতে পালিয়ে যান।
জ্ঞানমিত্র ভিক্ষুর বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে। বাড়িতে তার পক্ষাঘাতগ্রস্ত মা ছাড়া আর কেউ নেই। জ্ঞানমিত্র ভিক্ষু এখন ভারতের শিলিগুড়িতে অবস্থান করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে।
ভিক্ষু সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি চিকিৎসার জন্য এ বছরের মার্চে ভারতে যাই। মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে আসি। বেনাপোল বাজারে পানি কিনতে একটি দোকানে গেলে আচমকা কয়েকজন আমাকে ঘিরে ধরেন। তারপর একটা গাড়িতে আমাকে তোলা হয়। হুমকি-ধামকির মুখে তাদের পছন্দমতো কিছু কথা বলতে বাধ্য হই। ওই সময় তারা পুরো ঘটনা ভিডিওতে ধারণ করেন।’
জ্ঞান মিত্র বলেন, ‘ঘটনার সময় তারা আমাকে শারীরিকভাবে আঘাত করার ভয় দেখাচ্ছিলেন। ভয়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে পরদিনই আবার ভারতে চলে যাই। বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।’
ভিডিওতে দেখা যায়, অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ‘তুই’ সম্বোধন করে ওই ভিক্ষুকে রোহিঙ্গাদের ওপর হামলার জন্য দায়ী উগ্রবাদী বৌদ্ধ ও মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে বলা হয়। এক পর্যায়ে তিনি ‘অং সান সু চির মতো নারী কখনো বৌদ্ধ নেতা হতে পারেন না। তিনি কুকুরের বাচ্চা...’ বলতে থাকেন।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পরই বেনাপোল পোর্ট থানার পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করে। রাতে অভিযান চালিয়ে যাদের আইডি থেকে এই ভিডিওটি ছড়ানো হয়েছে, তাদের আটক করে পুলিশ।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অপূর্ব হাসান জানান, ওই ঘটনায় যে তিনজনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, তাদের আটক করা হয়েছে। তারা হলেন, বেনাপোলের ভবারবেড় গ্রামের করিম হাওলাদারের ছেলে রিয়াজুল ইসলাম মণ্ডল (৩০), একই গ্রামের শের আলীর ছেলে কলেজছাত্র আমিন হোসেন (২৪) এবং দুর্গাপুর গ্রামের হাসান আলীর ছেলে তৌফিক আহমেদ (৩০)।
এই ঘটনায় আর কারো সম্পৃক্ততা পেলে তাকেও ধরা হবে বলে জানিয়েছেন ওসি।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করছিল পুলিশ।
আটক তিনজনের মধ্যে মো. আমিন হোসেন ছাত্র। অন্য দুইজন ব্যবসা করেন।

প্রসঙ্গত, মিয়ানমারে সাম্প্রতিক মুসলিম রোহিঙ্গা গণহত্যার জন্য সেদেশের সেনাবাহিনীর পাশাপাশি উগ্র বৌদ্ধদের দায়ী করা হচ্ছে। এ নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমের দেশ বাংলাদেশের মানুষ প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। তবে বাংলাদেশে এখনো বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকেরা নিরাপদে আছেন। এই দেশের বৌদ্ধ নেতারা মিয়ানমারে গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার নিন্দা করছেন।

আরও পড়ুন