কাতালান স্বাধীনতার নেতা পুজদেমনের আত্মসমর্পণ

আপডেট: 01:40:50 06/11/2017



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : কাতালুনিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে স্পেন ছেড়ে বেলজিয়ামে চলে যাওয়া কার্লোস পুজদেমনসহ স্বাধীনতাপন্থী পাঁচ নেতা ব্রাসেলসে আত্মসমর্পণ করেছেন।
বেলজিয়ামের প্রসিকিউটরের দপ্তরের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যম জানিয়েছে, সোমবার সকালে আদালতে তোলার পর বিচারক সিদ্ধান্ত নেবেন, স্প্যানিশ আদালতের দায়ের করা ইউরোপীয় গ্রেফতারি পরোয়ানায় ওই পাঁচজনকে ফেরত পাঠানো হবে, নাকি জামিনে মুক্তি দেওয়া হবে।
স্বাধীনতা ঘোষণার নামে বিদ্রোহ, রাষ্ট্রদ্রোহ ও রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের অভিযোগে স্পেনের একটি আদালত গত শুক্রবার পুজদেমনসহ স্বাধীনতাকামী পাঁচ কাতালান নেতার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।
এর মধ্যে পুজদেমন ছিলেন স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত এলাকা কাতালুনিয়ার আঞ্চলিক সরকারের প্রেসিডেন্ট। বাকি চারজন হলেন তার সরকারের কৃষিমন্ত্রী মেরিটজেল সেরেট, স্বাস্থ্যমন্ত্রী এন্টনি কমিন, সংস্কৃতিমন্ত্রী লুইজ পুইজ এবং শিক্ষামন্ত্রী ক্লারা পনসাতি।
গত ২৭ অক্টোবর কাতালুনিয়ার পার্লামেন্টে স্বাধীতার ঘোষণা আসার পর আঞ্চলিক সরকার ভেঙে দিয়ে সেখানে কেন্দ্রের শাসন জারি করে স্পেন। সেই সঙ্গে পুজদেমন ও তার মন্ত্রীদের বরখাস্ত করা হয়।
এরপর কাতালুনিয়ার স্বাধীনতাপন্থি এই নেতাদের বিরুদ্ধে আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়। কিন্তু তার আগেই চার সহযোগীকে নিয়ে বেলজিয়ামে চলে যান পুজদেমন।
আদালতের সমনে হাজির না হওয়ায় গত শুক্রবার স্পেনের একজন বিচারক ওই পাঁচজনের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
পুজদেমন এর আগে বলেছিলেন, সুবিচারের নিশ্চয়তা না পেলে তিনি স্পেনে ফিরতে চান না। স্বাধীনতার দাবি আরো জোরদার করতে স্বাধীনতাপন্থী দলগুলোকে একজোট হয়ে ডিসেম্বরের আঞ্চলিক নির্বাচনে অংশ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।
ওই পাঁচ কাতালান নেতা স্থানীয় সময় রোববার সকালে বেলজিয়ামের ফেডারেল পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। সে সময় সঙ্গে তাদের আইনজীবীরাও ছিলেন।
ব্রাসেলসের প্রসিকিউটরের দপ্তরের মুখপাত্র বলেন, “আমাদের হাতে ২৪ ঘণ্টা সময় আছে আদালতে তোলার জন্য। বিচারকই সিদ্ধান্ত নেবেন, তাদের নিয়ে কী করা হবে।”
তাদেরকে গ্রেফতারের জন্য জারি করা ইউরোপীয় পরোয়ানা প্রত্যাখ্যান করা হবে নাকি শর্তসাপেক্ষে কিংবা জামিনে মুক্তি দেওয়া হবে সিদ্ধান্ত হবে সে ব্যাপারে।
বিচারক পুজদেমন ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার করার সিদ্ধান্ত নিলে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে তাদের স্পেন সরকারের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। তারা এর বিরুদ্ধে আইনগতভাবে কোনো পদক্ষেপ না নিলে হস্তান্তর প্রক্রিয়া আরো তাড়াতাড়ি সম্পন্ন হতে পারে।
সূত্র : বিবিসি, বিডিনিউজ

আরও পড়ুন